এ মাসেই আবার ওই নারীর জর্ডান ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
Published : 12 Oct 2026, 11:42 PM
Updated : 12 Oct 2026, 11:42 PM
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জর্ডান প্রবাসী এক নারীকে কুপিয়ে ৪ টুকরো করে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার স্বামী বিরুদ্ধে।
দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে গত রোববার রাত সাড়ে ৪টার দিকে খণ্ডিত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দুপুরের দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত শিরিন বেগম (৪২) এর বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া থানার রাজপাশা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত সোহরাব আলী। শিরিন বেগমের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জর্ডান প্রবাসী। স্বজনরা বলছেন, ছেলেকে বিয়ে দিতে ছুটিতে গত তিন মাস আগে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। এ মাসেই আবার তার জর্ডান ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।
যাত্রাবাড়ী থানার এসআই আতিকুল ইসলাম বলেন, “রোববার রাতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগের মোহাম্মদ খোরশেদ আলমের পাঁচতলা ভবনের ৪ তলার পশ্চিম পাশের ফ্ল্যাটে রান্নাঘরে পলিথিনে ঢাকা অবস্থায় শিরিন বেগমের চার টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই তার স্বামী মো. দুলালকে আটক করা হয়েছে।”
আটক দুলালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এসআই আতিকুল বলেন, “পরকীয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত। পারিবারিক কলহের জের ধরেই রোববার রাতের দিকে দুলাল তার স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করে।”
নিহতের ভাই মো. যুবরাজ বলেন, “দুপুর ১টার দিকে আমি জোহরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। ভাগ্নে ফোন দিয়ে বলে, আমার মাকে মেরে ফেলছে। পরবর্তীতে আমি খবরটা শুনে থানায় চলে যাই। বাড়িওয়ালার কাছে জানতে পারি, রোববার সন্ধ্যায় তাদের (শিরিন ও দুলাল) মধ্যে ঝগড়া হয়। এর আগেও তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া লাগত। ওইদিন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে দুলাল আমার বোনকে কুপিয়ে হত্যা করে।
“বাড়ির মালিক শব্দ পেয়ে তাদের ঘরের কাছে গিয়ে অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করলেও প্রথমে দরজা খোলেনি। অনেকক্ষণ পরে দরজা খুললে বাড়িওয়ালা দুলালকে জিজ্ঞেস করেন, রাতেরবেলা এত শব্দ কেন। কিন্তু দুলাল কিছু না বলে পালিয়ে যেতে চাইলে বাড়িমালিকের সন্দেহ হয়। পরে তিনি কৌশলে দুলালকে তার স্ত্রীকে ডেকে আনতে বলেন। দুলাল ভেতরে গেলে বাড়িমালিক বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে ৯৯৯-এ খবর দেন।”
কাঁদতে কাঁদতে মো. যুবরাজ বলেন, “আমার বোন দীর্ঘদিন জর্ডানে থাকতেন। ছেলের বিয়ের জন্য তিনমাস আগে ছুটিতে দেশে আসেন এবং ছেলেকে বিয়ে করান। কদিন পরেই আবার জর্ডানে চলে যাওয়ার কথা ছিল তার। ওর স্বামী এর আগেও একটা বিয়ে করেছিল।”
