
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরির পর সালমান আলি আগা। ছবি: পাকিস্তান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক
বড় লক্ষ্য তাড়ায় একশর আগে চার ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর, পাভান রাত্নায়াকে ও জানিথ লিয়ানাগের শতরানের জুটিতে আশা জাগাল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু এই দুজনের বিদায়ের পর হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল তাদের ব্যাটিং। পেসারদের দারুণ বোলিংয়ে জিতল পাকিস্তান।
ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ৩৭ রানে।
রাওয়ালপিন্ডির ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে রোববার কোনো দলই পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলতে পারেনি। এক বল বাকি থাকতে পাকিস্তান অলআউট হয় ৩০৫ রানে। জবাবে ১১ বল বাকি থাকতে ২৬৮ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা।
৪৩ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ২৫১ রান। তখন ৪২ বলে প্রয়োজন ছিল ৫৫ রান। কিন্তু পরের ওভারে লিয়ানাগের (৭৪ বলে ৬০) বিদায়ের পর আর পেরে ওঠেনি সফরকারীরা। শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা স্রেফ ১৫ রানের মধ্যে।
পাকিস্তানের চার পেসার মিলে নেন ৯ উইকেট। ৫৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি।
অসাধারণ এক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের নায়ক মূলত সালমান আলি আগা। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়কত্ব হারানো ব্যাটসম্যান পাঁচ নম্বরে নেমে ১০ চার ও এক ছক্কায় ৯০ বলে করেন ১০৭। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা ভালো ছিল না। ৩২ রানের মধ্যে বিদায় নেন দুই ওপেনার ফাখার জামান ও সাইম আইয়ুব।
সেখান থেকে অভিষিক্ত সাদ বেগকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন বাবর আজম। দুজনের ব্যাটে একশ ছাড়িয়ে যায় দলের স্কোর।
সাম্প্রতিক সময়ে বাবরের ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস বড় করতে না পারার যে সমস্যা, সেটি দেখা যায় এবারও। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে ইশান মালিঙ্গার শর্ট বলে বিদায় নেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক (৫৭ বলে ৪৫)। থামে ৮৩ বলে ৭৪ রানের জুটি।
মালিঙ্গা নিজের পরের ওভারে ফেরান সাদকেও (৪০ বলে ৩৯)। তখন ২২তম ওভারে ১১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভীষণ চাপে পাকিস্তান।
সেই বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করেন সালমান। প্রথমে হাসান নাওয়াজের সঙ্গে ৯৪ বলে ৯৭, এরপর আরাফাত মিনহাসের সঙ্গে ৪৬ বলে ৬৪ রানের জুটি উপহার দেন তিনি।
নাওয়াজ ফেরেন ৪৯ বলে ৩৭ রান করে। ৪৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখা সালমান সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮২ বলে।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চারটি সেঞ্চুরিই সালমান করলেন পাঁচ নম্বরে কিংবা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে। এক্ষেত্রে পাকিস্তানের হয়ে যা সর্বোচ্চ। তিনি ছাড়িয়ে গেলেন মোহাম্মাদ ইউসুফকে (তিনটি)।
৪৪ ও ৪৫তম ওভার মিলিয়ে পাকিস্তান তোলে ২৬ রান। ৩৩০ ছাড়ানো স্কোরেই তখন দৃষ্টি থাকার কথা স্বাগতিকদের।
কিন্তু শেষ পাঁচ ওভারে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার বোলাররা। এই সময়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান তুলতে পারে কেবল ২৬ রান।
সালমান ও মিনহাস ফেরেন ছক্কার চেষ্টায়। আফ্রিদির ১২ বলে ১৩ রানের সুবাদে তিনশ ছাড়াতে পারে পাকিস্তান।
রান তাড়ায় শ্রীলঙ্কাও শুরুটা ভালো করতে পারেনি। আভিশকা ফার্নান্দো ফেরেন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই। অধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস ৩৪ বলে করতে পারেন ১৮ রান।
ভালো শুরু পেয়ে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি কামিন্দু মেন্ডিস (৫০ বলে ৪৪)। সাহান আরাচ্চিগে ফেরেন দ্রুতই। পরপর দুই ওভারে এই দুজনকে ফেরান আফ্রিদি।
তখন ২০তম ওভারে ৯১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে শ্রীলঙ্কা। সেখান থেকে তারা ঘুরে দাঁড়ায় রাত্নায়াকে ও লিয়ানাগের ব্যাটে।
৫৪ বলে ফিফটি করেন রাত্নায়াকে। এরপর আফ্রিদিকে টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি।
দারুণ খেলতে থাকা রাত্নায়াকে বিদায় নেন আলগা শটে। ছয় চার ও দুই ছক্কায় ৭৪ বলে ৭৯ রান করেন তিনি। থামে ১০৭ বলে ১১৯ রানের দারুণ জুটি।
লিয়ানাগে এরপর দাসুন শানাকার সঙ্গে এগিয়ে নেন দলকে। চার মেরে ফিফটি করেন তিনি ৬২ বলে।
এই জুটি যতক্ষণ ক্রিজে ছিল, তখন শ্রীলঙ্কার জয়ের পাল্লাই ছিল বেশি ভারি। ৫ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ সাত ওভারে ৫৫ রান তো কঠিন কিছু নয়।
কিন্তু ৪৪তম ওভারে হারিস রউফের বলে লিয়ানাগের বিদায়ে ৪৩ রানের জুটি ভাঙার পর বদলে যায় চিত্র। পরের ওভারে শানাকাকে (১৮ বলে ২৮) ফেরান আফ্রিদি। এর পরের ওভারে নাসিম শাহর পরপর দুই বলে উইকেট পড়ে আরও দুটি, যার একটি রান আউট। আসিথা ফার্নান্দোকে ফিরিয়ে ম্যাচের ইতি টানেন রউফ।
নাসিম, রউফ ও ফাহিম আশরাফের শিকার দুটি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৪৯.৫ ওভারে ৩০৫ (ফাখার ১৬, সাইম ৭, বাবর ৪৫, সাদ ৩৯, সালমান ১০৭, নাওয়াজ ৩৭, মিনহাস ১৮, ফাহিম ৬, আফ্রিদি ১৩, নাসিম ০, রউফ ০; আসিথা ১০-১-৫৯-৩, মাদুশাঙ্কা ১০-০-৬৭-২, শানাকা ৭-০-৪১-০, মালিঙ্গা ৯.৫-১-৪৬-৪, কলম্বাগে ১০-০-৬১-০, কামিন্দু মেন্ডিস ২-০-১৯-০, আরাচ্চিগে ১-০-৮-০)
শ্রীলঙ্কা: ৪৮.১ ওভারে ২৬৮ (কামিন্দু মেন্ডিস ৪৪, আভিশকা ৫, কুসাল মেন্ডিস ১৮, রাত্নায়াকে ৭৯, আরাচ্চিগে ৩, লিয়ানাগে ৬০, শানাকা ২৮, কলম্বাগে ১, মালিঙ্গা ২, আসিথা ৭, মাদুশাঙ্কা ১*; আফ্রিদি ১০-০-৫৫-৩, নাসিম ১০-০-৪৩-২, রউফ ৯.১-০-৪৮-২, ফাহিম ৮-০-৪৯-২, মিনহাস ৯-০-৫৬-০, সাইম ২-০-১৪-০)
ফল: পাকিস্তান ৩৭ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সালমান আলি আগা
