মোঃ আলাউদ্দীন, কালিগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগরে তোহা বাজারের জায়গা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট এ জায়গা ব্যক্তি স্বার্থে বন্দোবস্ত না দেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে তোহা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, উপজেলার কৃষ্ণনগর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২০৬৮ দাগের পেরিফেরিভুক্ত জায়গাটি কয়েক যুগ ধরে তোহা বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। একসময় সেখানে মাছের বাজার ছিল। পরে মাছের বাজারটি স্থানান্তরিত হলে প্রায় দুই থেকে তিন যুগ ধরে ক্ষুদ্র চাল ও মাংস ব্যবসায়ীরা জায়গাটি ব্যবহার করে আসছেন। বর্তমানে সেখানে কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী চালসহ বিভিন্ন পণ্য কেনাবেচা করছেন। বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, জায়গাটির ব্যবহার ও স্থাপনা সম্পর্কে বন্দোবস্তের বিবরণে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব অবস্থার অসঙ্গতি রয়েছে। সম্প্রতি জায়গাটি ব্যক্তি নামে বন্দোবস্তের আবেদন ও ভূমি অফিসের সুপারিশের বিষয়টি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, পেরিফেরিভুক্তির তথ্য ও সরেজমিন পরিস্থিতি যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, বাজারের জায়গাটিতে সরকারি উদ্যোগে নির্মিত লোহার ফ্রেমযুক্ত টিনশেডের ছাউনি ছিল। তাঁদের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১০ মে রাতে একটি গোষ্ঠী ছাউনিটি অপসারণ করে জায়গাটি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়দের প্রতিবাদ ও প্রতিরোধের মুখে সে চেষ্টা সফল হয়নি। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সেখানে কয়েকটি পিলার স্থাপন করা হয়। তবে অপসারিত লোহার ফ্রেম ও টিনশেডের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তাঁরা কিছু জানেন না বলে জানান। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান বক্তারা। মানববন্ধনে উপস্থিত কৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত আব্দুস সামাদ সরদারের ছেলে তৌফিকুজ্জামান ও তাঁর স্ত্রী সাইমা পারভীনও বক্তব্য দেন। তাঁদের দাবি, কৃষ্ণনগর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২০৬৬ দাগে তাঁদের নামে বরাদ্দ করা একটি কসমেটিকসের দোকান ও একটি কাঁচামালের আড়তকে সেমিপাকা কাপড়ের দোকান হিসেবে দেখিয়ে উপজেলার শংকরপুর গ্রামের মৃত জিয়াদ আলী কাগুজির ছেলে ইদ্রিস আলী কাগুজী ও বেনাদনা গ্রামের আব্বাস ঢালীর ছেলে খোকন ঢালী বন্দোবস্ত নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁরা বিষয়টি তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। ভূমি অফিসের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কৃষ্ণনগর মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের ২০৬৮ দাগের তোহা বাজার হিসেবে পরিচিত জায়গাটিতে সেমিপাকা কাপড়ের দোকান রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ১৪৩২ বঙ্গাব্দ থেকে জায়গাটি ব্যবহার করার তথ্যের সঙ্গে শংকরপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী কাগুজীর দুই ছেলে আনোয়ারুল ও এমদাদুল, মেয়ে মোছা. আয়েশা খাতুন এবং কৃষ্ণনগর গ্রামের নুরুল ইসলাম সরদারের ছেলে মোহাম্মদ শাহিনের নাম উল্লেখ রয়েছে। ‘কৃষ্ণনগরের তোহা বাজার রক্ষা ও উন্নয়ন চাই’ স্লোগানে আয়োজিত মানববন্ধনে শহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার ইব্রাহিম বাহারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল আজিজ গাইন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, তৌফিকুজ্জামান, সাইমা পারভীন, ব্যবসায়ী আসফারুকুজ্জামান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজিজ ও খাদেমসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। মানববন্ধন থেকে তোহা বাজারের জায়গা সংরক্ষণ, বিতর্কিত বন্দোবস্ত কার্যক্রম স্থগিত, সংশ্লিষ্ট নথি ও ভূমি অফিসের প্রতিবেদন তদন্ত এবং বাজারটি পুনরায় উন্নয়ন করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জি, এম ফয়েজ আহমেদ বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
