কলকাতা মেডিক্যালে নাবালকের মৃত্যুতে তদন্তের আশ্বাস দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। চিকিৎসায় গাফিলতি থাকলে কাউকে ছাড়া হবে না। রবিবার মৃতের বাড়ির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে এই আশ্বাস দেন মন্ত্রী। তাঁদের অভিযোগ শোনেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, কী কী ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল তার কেমিক্যাল বিশ্লেষণ হবে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। পরিবারকে আর্থিক ও সামাজিক সাহায্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসকদের মনে হয়েছিল, রোগী শকে আছে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু হয়। হৃদপিণ্ডের সঞ্চালন ক্ষীণ হয়ে যায়। বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা হয়েছে মন্ত্রীর। তিনি আরও জানান, মৃতের ময়নাতদন্ত বাঞ্ছনীয়। তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে রেয়াত করা হবে না। পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার থাকবে। আর্থিক ও সামাজিক সাহায্যের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান মন্ত্রী। চিকিৎসায় গাফিলতি থাকলে দোষীরা শাস্তি পাবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এছাড়াও পুলিশের কাছে তাঁর আবেদন, এই ঘটনা যেন সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়।
উল্লেখ্য, রবিবার লক্ষ্মীপুজোর সকালে পেটে ব্যথা নিয়ে কলকাতা মেডিক্যালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয় এক নাবালককে। তার নাম পবন যাদব (১১)। সে হাওড়ার আন্দুলের বাসিন্দা। দুর্গাপুজোর সময় কলকাতায় মামার বাড়িতে এসেছিল। সেখানেই অসুস্থ হয়ে পড়ে পবন। রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় তাকে। পরিবারের দাবি, সেখানে জুনিয়র চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা করছিলেন। পবনকে পরপর দুটি ইঞ্জেকশন দেন তাঁরা। দ্বিতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই মৃত্যু হয় পবনের। অভিযোগ, ভুল ইঞ্জেকশন দিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে নাবালককে। এই ঘটনায় হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশের সঙ্গে রোগীর পরিবারের সদস্যদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পালটা লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।
