ত্রিদেশীয় সিরিজে সমীকরণের মারপ্যাঁচে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতি যে এবারই প্রথম, এমন নয়। মেগা টুর্নামেন্ট কিংবা তিন জাতি সিরিজে প্রায়শই এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয় টাইগারদের। তাই সংশ্লিষ্ট সবাইকেও পড়ে থাকতে হয় ক্যালকুলেটর নিয়ে; হিসাব কষতে হয়, কী করলে পরের রাউন্ডে উঠতে পারবে বাংলাদেশ।
বিজ্ঞাপন
সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটা কাছাকাছি গিয়ে হারলে তেমন সমস্যা হতো না বাংলাদেশের। তবে বড় ব্যবধানে হার টাইগারদের ফেলেছে নেট রান রেটের চাপে। তাই আফগানিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা শুধু জিতলেই চলবে না টাইগারদের, জিততে হবে বড় ব্যবধানে। কাগজে-কলমে বাংলাদেশের সমীকরণটা এরকম-
আগে ব্যাট করলে বাংলাদেশকে জিততে হবে অন্তত ৪১ রানে। পরে ব্যাটিংয়ের ক্ষেত্রে সমীকরণটা একটু জটিল। এক্ষেত্রে টার্গেটের ওপর নির্ভর করবে সমীকরণ। যেমন- আফগানিস্তান ২০০ রান করলে ৪০.২ ওভারের মধ্যে জিততে হবে। ২২০ রানের লক্ষ্য হলে ৪০.৫ ওভার এবং ২৪০ রানের লক্ষ্য হলে ৪১.১ ওভারের মধ্যে জিততে হবে বাংলাদেশকে। ২৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হলে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করতে হবে বাংলাদেশকে। লক্ষ্য ২৬০ হলে সময় থাকবে ৪১.৪ ওভার, ২৭০ হলে ৪১.৫ ওভার এবং ২৮০ হলে ৪২ ওভার। আফগানিস্তান ৩০০ রান করলে বাংলাদেশকে জিততে হবে ৪২.২ ওভারের মধ্যে।
নানামুখী এসব সমীকরণের মধ্যে বাংলাদেশের জন্য আশার আলো মেহেদী হাসান মিরাজের ফেরা। জ্বরের কারণে গত ম্যাচে তাকে পায়নি বাংলাদেশ। তবে জ্বর কাটিয়ে তিনি এখন মাঠে ফেরার জন্য প্রস্তুত। মিরাজকেছাড়া গত ম্যাচে আফগানদের বিপক্ষে বেশ ছন্নছাড়া ছিল বাংলাদেশের স্পিন ইউনিট। লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন কেবল ১ উইকেট নিয়েছেন, বল হাতে ছিলেন খরুচে। মোসাদ্দেক হোসেন উইকেটশুন্য থাকার পাশাপাশি ছিলেন খরুচে। তবে পার্ট টাইমার সাইফ হাসান বেশ সফল ছিলেন। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে গত দুই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানের অফ স্পিনাররাও বেশ সফল ছিলেন। তাই মিরাজ এখানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন বাংলাদেশের জন্য। মিরাজ দলে ফিরলে বাদ পড়তে পারেন মোসাদ্দেক হোসেন বা রিশাদ হোসেন।
এদিকে, বল হাতে খারাপ সময়টা যেন পারই হচ্ছে না মুস্তাফিজুর রহমানের। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও উইকেটশূন্য ছিলেন তিনি। তার বদলে এই ম্যাচে হাসান মাহমুদকে পরখ করে দেখতে পারে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক সময়ে লাল বলে বেশ সফল হাসান। সাদা বলে দলের ভাগ্য ফেরাতে তার ওপর আস্থা রাখতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।
লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে এই সিরিজেই প্রথমবার ওয়ানডের অধিনায়কত্ব করছেন তাওহীদ হৃদয়। নতুন অধিনায়ক হিসেবেই জটিল সময়ের ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে তাকে। পরের ম্যাচে বড় জয় আনতে হলে নেতৃত্বে মুন্সিয়ানা দেখাতে হবে তারও।
আফগানিস্তান নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেশ সফল ছিল। ব্যাটিং-বোলিং দুই ডিপার্টমেন্টেই নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন রশিদ খানরা। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ইচ্ছা না থাকলে এই ম্যাচে কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নেই তাদের।
গত দুই ম্যাচে টস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। টসে জিতে দুইবারই ব্যাটিং নিয়েছেন অধিনায়করা আর দুইবারই ব্যাটিং দল জিতেছে। আজকের ম্যাচেও টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ গত দুই ম্যাচেই ফ্লাডলাইটের আলোয় সুবিধা পেয়েছে বোলিং দল। আর গত দুই ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও পিচ ব্যাটিং-সহায়ক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচে হুমকি হয়ে উঠতে পারেন আফগান ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। নিজের সর্বশেষ ৩ ওয়ানডেতে ২৮০ রান করেছেন তিনি। এই ম্যাচেও নজর থাকবে তার দিকে। অন্যদিকে, গত ম্যাচে শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ। তাই ইব্রাহিমের বিপক্ষে তার লড়াইটা জমে উঠতে পারে। এর বাইরে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের লেগ স্পিন জুজু বরাবরই দলকে ভুগিয়েছে। সেক্ষেত্রে রশিদ খান বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তাকে সামলানোর জন্য নিশ্চয়ই আলাদা পরিকল্পনা সাজাবে টিম ম্যানেজমেন্ট।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ৫ ওয়ানডের মধ্যে ৪টিতে হেরেছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতেই সর্বশেষ সিরিজে আফগানদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে টাইগাররা। অতীত পরিসংখ্যান, কন্ডিশন সবকিছুই আফগানদের পক্ষে; এছাড়া সমীকরণের অতিরিক্ত চাপ না থাকায় আজকের লড়াইয়ে ফেভারিট হিসেবে নামবে তারাই। শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায়।
-6555c4.jpg&w=1440&q=75)