গোলাপ
ইফতেখার রবিন
চেতনার রঙে গোলাপ-
অন্তর্লীন পুলকানন্দে
সৌন্দর্য তার নিজস্ব শরীর ছাপিয়ে
হয়ে ওঠে নৈসর্গিক রহস্য।
পাহাড়ের নীলিমা,
নদীর স্বপ্নাপ্লুত কল্লোল-
সবকিছু শেষে এসে মিশে যায়
একটি মুগ্ধতার আত্মায়।
আমি নেই-
শুধু সত্যের বিভাময় আলো;
আর তার ভেতর
নির্জন গোলাপটি
ক্রমশ সুন্দর হয়ে ওঠে।
যদি ভালোবাসো
সুশান্ত হালদার
যদি ভালোবাসো- মেয়ে
শরৎ যামিনী জোছনা ছেড়ে দেব কি তুচ্ছ প্রেতের ভয়ে?
কত শিশিরসিক্ত ভোর হেলে পড়েছে পশ্চিমে
ক্ষত নক্ষত্রগুলো মরে আছে শূন্যস্থিত ক্রান্তিবলয়ে
কত মানব অচেনা হয়েছে রক্ত-নদী-বাসরে
কত নারী দেখেছি
নরকের দ্বার দু হাতে শক্ত করে ধরেছে নগর ধ্বংস প্রহরে
কত শিশু অবাক করা হাসি হেসেছে নির্বাক ঈশ্বরে,
তথাপি যদি ভালোবাসো- মেয়ে
রবিশস্য বিকেলে
সবুজের ঢেউ শুনে-গুনে চলে আসবো বকুলঝরা শেফালী প্রভাতে
মরমে হিয়া বাজে যদি মধুসূদন সনেটে
ভুসুকুপা যদি হেসে উঠে জীবনানন্দময় হুমায়ুন আজাদে,
তবে জননী আহ্লাদিত বুকে
আমিও লিখে দেব নাম ‘বাংলাদেশ’ পালি থেকে স্বরবর্ণ অক্ষরে!
মহিষাসুরমর্দিনী
মোহাম্মদ ইসমাইল
যুদ্ধোন্মত্ত মহিষাসুরের সেই ক্রূর হাসি,
দেখে শান্তিকামী বিশ্ববাসী ;
তাদের স্বভাবজাত চক্ষে দেখতে মনে হচ্ছে-
ভীষণ রকম ভয় পাচ্ছে।
কিন্তু তাঁরই অলক্ষ্যে, পরমা এক মহাসুখে,
ভয়ংকর কোনো ত্রিশূল হাতে নিয়ে –
মহিষাসুরমর্দিনী যে আছে লুকিয়ে!
এই পৃথিবীর অশুভ শক্তিরা কি তা জানে?
বলো, তা কি জানে?
ধলেশ্বরী নদীর তীরে
মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম
এক প্রাচীন পথ,
এর সৃষ্টির রহস্য আমার জানা নেই।
হয়তো দীর্ঘকাল যাবৎ পড়ে আছে।
কে জানে, এই পথে কত প্রজন্মের
পদচিহ্ন মিশে গিয়েছে?
পাশে বহমান ধলেশ্বরী নদী।
যার তীরেই আমার নাড়ির শিকড়।
শৈশবে মায়ের আঁচল ধরে পূর্ণিমার চাঁদ দেখেছি,
নির্মল বাতাসে প্রাণভরে প্রশ্বাস নিয়েছি,
বিস্তীর্ণ তুলা ক্ষেতে দুরন্তপনায় মেতে উঠেছি,
বাবার হাতের কনিষ্ঠ আঙুল ধরে
বহুবার এই জীর্ণ পথে হেঁটেছি।
এখনো নিশ্চল পথটি প্রকৃতির নিস্তব্ধতাকে
সঙ্গী করে মহাকালের সাক্ষী হয়ে আছে।
যেখানে আমি আজো হেঁটে যাই।
কিন্তু, মা-বাবা নেই!
শূন্যতার তীব্র কষ্ট অনুভব করি।
এক দীর্ঘশ্বাস ফেলি।
তবুও, মধুর স্মৃতিবিজড়িত এই পথে
এখনো আমি মা-বাবার শরীরের গন্ধ পাই।
বিশ্বাস ও ক্ষমা
দ্বীপ সরকার
বিশ্বাস- ক্ষুদ্রাকৃতির মারবেলের মতো
জীবন থেকে খসে গেলে
কেবল তোমার দিকে পতিত হয়
তুমি তো অবিশ্বাসের মায়া
এক আঁজলা অবিশ্বাস নিয়ে
আমি অন্ধকারের সাথে কথা বলি
সন্ধ্যার সাথে মিলে যাচ্ছে নির্জনতা
সমুখে ঈশ্বর!
আলো অন্ধকার নিয়ে আড্ডা দিচ্ছে
বালিকা, ওহে বালিকা
এই গাঢ় সন্ধ্যায়
তুমি ফিরে আসো
বিশ্বাসগুলো ফিরছে যার যার ঘরে
অভিমানচুড়োয়, আমার ক্ষমা ঝুলে আছে
বোধের ভিতর ঘুম
শাখাওয়াত তানভীর
আমরা পুকুর ভরে দালান করা মানুষ
দীঘির জলে নিজের ছায়া খুঁজি না;
আমরা প্রণয়ভাবে ফুল ছেঁড়া মানুষ
প্রণয়ী মালীর বিরহ-বেদনে কাঁদি না;
আমরা বিপ্লব বিকিয়ে চেয়ার কেনা মানুষ
বুকের দরিয়ায় অবাঞ্ছিত নোঙরে ভাবি না;
আমরা বোধের ভিতর ঘুমিয়ে থাকা মানুষ
ধর্মে মরি, ধর্মে মারি; ধর্মে কখনো বাঁচি না!
মায়া
ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয়
মাঝরাতে গলির রাস্তায় কিংবা মেইনগেটের কাছে ঘেউঘেউ করা কুকুরের একটি দল;
আমাকে তারা ভালো করেই চিনেছে আজকাল।
আমাকে চিনেছে সি-ব্লকের গলির মোড়ের ছিনতাইকারী। রাতবিরোতে আমাকে দুঃখ নিয়ে ফিরতে দেখে তাদের হয়তো আফসোস হয়।
রাইদা বাসটা কী অদ্ভুত ভাবে আমাকে
ভালোবাসতে শুরু করেছে।
এতো সীমাবদ্ধ গন্তব্য নিয়ে আমি আর কতদূর যেতে পারি বলো? চোখ মেললেই সারিবদ্ধ একটি শহরের জন্ম হয়; মগবাজার, মালিবাগ রেলগেট- খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়ি, সিপাহীবাগ কাঁচাবাজার- সেখানে আমার বড় বোন থাকে। তাদের দুটো মেয়ে।
দুলাভাই নরম স্বভাবের শান্ত মানুষ; কবি নয় কিন্তু।
তবুও বৃষ্টির দিনে তাকে গোলাপ কিনতে দেখি। অফিস থেকে ফেরার সময় হাতে সংসারের ব্যাগ, বাচ্চাদের জন্য খেলনা, ডার্ক চকলেট।
আমরা একসাথে চা খাই, টানাপোড়েনের গল্প করি। কখনো কখনো খিলগাঁও ফ্লাইওভারের
ওপর দিয়ে উড়তে থাকি দুজনে।
চাঁদ পহরে
অভি ওসমান
চাঁদ পহরে পাই তোমাকে বাঁশবাগানের কাছে
সবিস্ময়ে দেখি তোমার চোখের তারা নাচে,
তুমি যখন ফুল ফোটাও আমি ঢালি জল
আমি যখন হাতটি মেলি তুমি বাড়াও ফল।
The post গোলাপ appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
