যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার দাবি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই ইউক্রেনের একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে রাজধানী কিয়েভের কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। পরে খারকিভের জ্বালানি অবকাঠামোতেও হামলা হয়। ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশ পরস্পরের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে সম্মত হয়েছে। তবে ইউক্রেন বলছে, এ বিষয়ে তাদের আগে কিছু জানানো হয়নি। মস্কোও এখন পর্যন্ত সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছিলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছে। তবে এ সমঝোতার শর্ত, মেয়াদ কিংবা কার্যকরের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এ ধরনের কোনো সমঝোতার বিষয়ে কিয়েভকে আগে জানানো হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে তিনি বলেন, রাশিয়া জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে সম্মত হলে ইউক্রেনও একই পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
পরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেন, যুদ্ধের উত্তেজনা কমানো, মানুষের জীবন রক্ষা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে ইউক্রেন সব সময় সমর্থন করে। তবে ট্রাম্পের ঘোষিত সমঝোতার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগের অপেক্ষায় রয়েছে কিয়েভ।
এদিকে ট্রাম্পের ঘোষণার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে ইউক্রেনের মিত্ররাও। রাশিয়া এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো সমঝোতার কথা নিশ্চিত করেনি। এর মধ্যেই ইউক্রেনের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনা ঘোষিত যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কার্যকর জ্বালানি যুদ্ধবিরতির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেনের অবকাঠামোয় হামলা জোরদার করে রাশিয়া যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করছে। ফ্রান্স ইউক্রেন ও জেলেনস্কির পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও জেলেনস্কির আহ্বানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার মতে, এমন একটি যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন, যা দুই দেশের জ্বালানি অবকাঠামোর পাশাপাশি বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহব্যবস্থাকেও সুরক্ষা দেবে।
তবে এ উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তার আশঙ্কা, এ ধরনের সমঝোতা ইউরোপে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে। একই সঙ্গে রাশিয়ার আয় বাড়িয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অর্থ জোগাড়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটল এমন এক সময়ে, যখন দেশটিতে প্রাণঘাতী হামলা বেড়েছে। অ্যাক্সিওসকে জেলেনস্কি বলেন, ট্রাম্প যদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা করে থাকেন, তবে যুদ্ধবিরতি কবে থেকে কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট করা উচিত। ইউক্রেনও তাতে সম্মত হতে প্রস্তুত।
সূত্র: ইউরোনিউজ
