সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বিভিন্ন চোরাই পথে বগুড়ার নন্দীগ্রামে অবাধে ঢুকছে ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, ট্যাপেন্টাডলসহ বেশ কয়েক ধরনের মাদকদ্রব্য। চেকপোস্টে নিয়মিত তল্লাশি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে কৌশল বদলে মালবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল আরোহী ও বাসযাত্রী সেজে আনা হচ্ছে এসব চোরাচালন পণ্য। এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার নন্দীগ্রাম পৌর শহরে দুটি পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ সিন্ডিকেটের মূল হোতা ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়ার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেনÑ উপজেলার বাসস্ট্যান্ড কচুগাড়ী মহল্লার মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে জাকির হোসেন (৪২) এবং কলেজপাড়া মহল্লার হাফিজার রহমানের ছেলে হোসেন আলী (৩৬)। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ৪৫৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, পৌর শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তারের নেপথ্যে ছিল এই সিন্ডিকেট। হাফ ডজন মামলার আসামি জাকির হোসেন পূর্বে একাধিকবার গ্রেপ্তার হন এবং একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদ-প্রাপ্ত হন। কিন্তু জামিনে কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে তিনি পুনরায় ইয়াবার সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন।
অন্যদিকে, কলেজপাড়ার বাসিন্দা হোসেন আলী কাঠের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গাছ কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাকিরের প্রলোভনে পড়ে শর্টকাটে কোটিপতি হওয়ার আশায় কাঠ ব্যবসার আড়ালে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এর আগে গত জুলাই মাসেও ৫০ পিস ইয়াবাসহ স্থানীয়দের হাতে আটক হয়ে পুলিশে সোপর্দ হয়েছিলেন হোসেন আলী।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বগুড়ার পরিদর্শক সামসুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পৌরসভার কলেজপাড়া ও কচুগাড়ী মহল্লায় দুটি পৃথক অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে হোসেন আলীর বসতবাড়ি থেকে ৪৫০ পিস এবং জাকির হোসেনের কাছ থেকে পাঁচ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। ঘটনাস্থলেই জাকির হোসেনকে ইউএনও এম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তারকৃত অন্য মাদক কারবারি হোসেন আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।