সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা। ছবি: এক্স
Published on
:
2 min read
যন্তর মন্তরে কর্মসূচি ঘিরে এ বার হাইকোর্টের প্রশ্নের মুখে পড়লেন ককরোচ জনতা পার্টির সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে প্রশ্ন উঠল, যখন কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য যন্তর মন্তরকে ডি-নোটিফাই করে দেওয়া হয়েছে, তা হলে কেন তাঁরা সেখানে গেলেন? এ দিনের শুনানি পর্বে উঠল ‘অন্য দেশ’-এর প্রসঙ্গও।
স্পেশাল এগ্জ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন, পরে যার মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাইকোর্টে যান এই দুই সিজেপি নেতা। এ দিন একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ শুনিয়েছে আদালত।
ককরোচ নেতাদের প্রশ্ন দিল্লি হাইকোর্টের
যন্তর মন্তরে সব রকম বিক্ষোভ কর্মসূচি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও গত ১৩ অক্টোবর জাতীয় পতাকা হাতে বেশ কিছু সিজেপি সমর্থক সেখানে যান। তার আগে দিল্লির কনৌট প্লেসে ‘লেহরা দো তেরঙ্গা’ কর্মসূচির ডাক দিয়ে আগেভাগেই আটক হন দীপকে। পরে পুলিশকে মুচলেকা দিয়ে শর্তসাপেক্ষে জামিন পান তিনি। আগামী এক বছর রাজধানী দিল্লিতে কোথাও কোনও ভাবে শান্তিভঙ্গ করবেন না তিনি— দিল্লি পুলিশের পিস বন্ডে সই করে শর্তসাপেক্ষ জামিন পান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত্ দীপকে।
আপনারা ব্যারিকেড ভাঙলে তো...
এ দিকে বেল-বন্ড ভেঙে জাতীয় পতাকা-সহ যন্তর মন্তর চত্বরে ঢুকে অশান্তির বাধানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় দুই ককরোচ নেতা সৌরভ ও আশুতোষকে। আইনভঙ্গের কারণে ঠাঁই হয় জেলে। জেল থেকে ছাড়া পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। এ দিন আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘আপনারা সামনে সারিতে। আপনারা ব্যারিকেড ভাঙলে, আরও অনেকে তা অনুসরণ করবে, তার সম্ভাবনা থাকে। সেখানে এমন লোক থাকতেই পারেন, যিনি আপনাদের নিয়ন্ত্রণে নন।’
অন্য দেশে অশান্তি প্রসঙ্গ
বিচারপতি সুব্রহ্মণ্যম প্রসাদ এই প্রসঙ্গে অন্য দেশের অশান্তির প্রসঙ্গ তোলেন। যদিও কোনও দেশের নাম তিনি করেননি। বলেন, ‘আমরা দেখেছি দেশের বাইরে কী হয়েছে। যা ছাত্র আন্দোলন দিয়ে শুরু হয়েছিল, তা অন্যদিকে মোড় নেয়। আগুন জ্বলে, ভাঙচুর চলে।’ কোর্টরুমে প্রশ্ন ওঠে ‘ব্রিচ অফ বন্ড’ নিয়ে। প্রথম গ্রেপ্তারির পরে সিজেপি নেতারা যে কাগজে সই করেছিলেন, সেই শর্ত ভাঙা নিয়ে।
মামলার সূত্রপাত
গত ১০ অক্টোবর প্রথমবার গ্রেপ্তার হন সৌরভ, আশুতোষ, দীপকেরা। দিল্লি এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেপ্তার হন তাঁরা। সে দিনই ৫০ হাজার টাকার পিস বন্ডে সই করে ছাড়া পান তাঁরা। সৌরভ ও রাঙ্কা ফের গ্রেপ্তার হন ১৪ অক্টোবর, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টার কারণে। তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। এর পরে ১৯ অক্টোবর স্পেশাল এগজ়িকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (SEM) সেই জেল হেফাজত আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দেন। SEM-এর পর্যবেক্ষণ ছিল, ইচ্ছাকৃত দুই সিজেপি নেতা বন্ডের শর্ত অমান্য করেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান সৌরভ ও রাঙ্কা।
আদালত প্রশ্ন করে, ‘আপনি যখন কোনও বন্ডের শর্ত ভঙ্গ করেন, তখন কি কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর শর্তযুক্ত বন্ড চাওয়ার অধিকার থাকে না?’ আদালত এই দুই সিজেপি নেতার বয়স জানতে চায়। তাঁদের আইনজীবী জানান, ২৭ আর ৩৩। তা শুনে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘তার মানে আপনারা GenZ নন। মিলেনিয়ালদের বয়স কত? এটা তো ছাত্র বিক্ষোভ ছিল। বাচ্চারা ছিল সেখানে, কিন্তু এখন তো অন্য বিষয়। লোকজন একই, কিন্তু বিষয় বদলে গিয়েছে।’
হাইকোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার
সিজেপির দুই নেতার আইনজীবীদের আদালত পরামর্শ দেয়, সন্ধে অবধি অপেক্ষা করতে পারেন, যতক্ষণ না ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করা হচ্ছে। এর পরেই সিজেপি নেতাদের আইনজীবী হাইকোর্টে করা আবেদন প্রত্যাহার করে নেন।