নিবন্ধনহীন প্রেস ক্লাব অবৈধ, অন্য পেশায় থাকলে সাংবাদিকতা নয়: প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান
নিবন্ধনহীন প্রেস ক্লাব অবৈধ। একই সঙ্গে শিক্ষকসহ অন্য পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাংবাদিকতা করার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত সেমিনার ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভার বিষয় ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন—সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য’। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব (যুগ্ম সচিব) আব্দুস সবুর ও তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান। প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বলেন, সাংবাদিকতা একটি স্বতন্ত্র ও দায়িত্বশীল পেশা। সাংবাদিকতার পরিচয় শুধু পদবি বা পরিচয়পত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সংবাদ সংগ্রহ, তথ্য যাচাই, সত্যতা নিশ্চিত করা এবং নিরপেক্ষভাবে জনগণের কাছে সঠিক তথ্য তুলে ধরা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। তাই পেশাগত আচরণবিধি ও নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। তিনি আরও বলেন, অন্য পেশায় নিয়োজিত থেকে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করলে পেশাগত স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে হবে। এছাড়াও তিনি আরো বলেন সাংবাদিকদের নিজেদের অধিকার এবং অধিকার সম্পর্কিত আইন অনুসরণ করা এবং সচেতন হওয়ার তাগিদ দেন। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যেন ব্যক্তিগত সুবিধা আদায় বা প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। পেশাগত নীতিমালা অনুসরণ করে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাংবাদিকদের বেতন/ সম্মানী এবং প্রেস কাউন্সিল তথ্য মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রতি সাংবাদিকের ব্যাচ নম্বর সংবলিত আইডি কার্ড প্রদানের আহবান জানান। অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রায় ২০/২৫ জন গণমাধ্যম কমী অংশ নেন।

রাজস্থলীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা
পার্বত্য পাহাড় আর সবুজ প্রকৃতির বুকজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিয়ে বিদায় নিলেন মা দুর্গা। প্রতিমা বিসর্জন ও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলায় শেষ হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। উৎসবের শেষ দিনে ভক্তদের চোখে ছিল বিদায়ের বিষাদ, আর মনে ছিল আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা। এবার রাজস্থলী উপজেলার তিন টি ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি ইউনিয়নে মোট ৫ টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।তার মধ্যে ছিল একটি পারিবারিক। পূজাকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে ছিল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, আরতি ও ভক্তদের আনাগোনা। কয়েক দিনের উৎসবকে কেন্দ্র করে এ দুর্গম পার্বত্য জনপদে সৃষ্টি হয় আনন্দমুখর পরিবেশ। পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি উৎসবটি পাহাড়ী বাঙ্গালী মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করার উপলক্ষ হয়ে ওঠে। দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজস্থলী উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে উপজেলার ঘিলাছড়ি ও বাঙ্গালহালিয়াতে পূজামণ্ডপগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। কয়েক স্তরে পুলিশ,সেনাবাহিনীর ও আনসার ছিল নিরাপত্তা জোরদার। উৎসব চলাকালে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার পালনের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণে উৎসবকে ঘিরে জনমনে স্বস্তি তৈরির প্রত্যাশা ছিল। হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ১৫ অক্টোবর ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়। টানা ছয় দিনের আনন্দ উৎসবের পর বুধবার বিকাল ৫ টার পর বিজয়া দশমীর দিন দেবী বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মণ্ডপে মণ্ডপে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। ভক্তদের প্রার্থনায় উঠে আসে অশুভ শক্তির বিনাশ, মানুষের কল্যাণ এবং পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষা। শেষদিনে বাঙ্গালহালিয়া কুতুরিয়া পাড়া ও ছাগল খাইয়া থেকে ট্রাকের করে শোভাযাত্রা বের হন মা দুর্গা, কার্তিক, স্বরসতী, লক্ষী ও গনেশ। অপর দিকে রাজস্থলী বাজার হরিমন্দির থেকে শোভযাত্রা বের হয়ে তাইতং পাড়া, নারামুখ পাড়া, খাগড়াছড়ি পাড়া হয়ে বাজার পুকুরে এসে শেষ হয়। এ সময় ভক্তরা নাচ-গান, ঢাকঢোল, উলুধ্বনি ও রং ছিটানোয় মেতে ওঠেন। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তরা শেষ বিদায় জানাতে বাজার পুকুর ও কর্ণফুলী নদীর ঘাটে ভীড় করেন। পরে দেবীর চরণে সিঁদুর ছুঁইয়ে একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মেখে আনন্দ ভাগাভাগি করেন ভক্তরা। নাচ, গান ও মিষ্টিমুখের মধ্য দিয়ে চলে এই আয়োজন। পরে কর্ণফুলী ও রাজস্থলী বাজার পুকুরে দেয়া হয় প্রতিমা বিসর্জন। রাজস্থলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউছুফ হাসান বলেন, কঠোর নিরাপত্তা মধ্য দিয়ে রাজস্থলী উপজেলার ৫ টি মন্ডপে শেষ হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। শেষ দিনেও যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্তরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তায় ছিল। আগামীতেও এই ধরণে নিরাপত্তা জোরদার থাকবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। ছবি ক্যাপসন,

রামগড়ে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব
বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের ফেনী নদীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা অশ্রুশিক্ত বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে খাগড়াছড়ির রামগড়ের শারদীয় দুর্গোৎসব। বুধবার বিজয়া দশমীর দিনে সকাল বেলা মন্ডপগুলোতে দশমীর বিহিত পূজা এবং দর্পন বিসর্জনের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান শেষ হয়।সনাতন শাস্ত্রের বিশ্বাস অনুযায়ী এ বছর ঘোড়ায় চড়ে পৃথিবীতে আসেন দেবী দুর্গা আজ নৌকায় চড়ে বিদায় নিচ্ছেন। এর মধ্যে পঞ্চমী হতে দশমী পর্যন্ত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন এবং আনন্দযজ্ঞকে অশ্রুসিক্ত বিদায় জানাচ্ছেন হাজারো ভক্তবৃন্দ।দুর্গা বিসর্জন এবং দেবী দুর্গার শিক্ষার বার্তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর রামগড় শ্রী শ্রী দক্ষিনেশ্বরী কালিবাড়ী মন্ডপ হতে সারিবদ্ধভাবে একে একে বের করা হয় প্রতিমাগুলো।দেবী দুর্গাসহ অন্যান্য দেবদেবীর প্রতিমা নিয়ে বর্ণাঢ়্য শোভাযাত্রা বের করেন দুুর্গোৎসব উদযাপন কমিটি। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান সড়ক দিয়ে কয়েকটি পাড়া মহল্লা ঘুরে ফেনী নদীর বাজার ঘাট এলাকায় এসে শেষ হয়।সেখানে নেচে গেয়ে সিঁদুর খেলায় মেতে উঠতে দেখা যায় ভক্তদের। এ শোভাযাত্রায় তরুন তরুনী, শিশু কিশোর, আবাল বৃদ্ধসহ সকল বয়সের সনাতনী ভক্তবৃন্দ রংবেরংগের পোষাক পরে অংশ নেন। মনের মাধুরী দিয়ে সেজেছেন অপরুপ সাজে। আনন্দ উল্লাস আর খোসগল্পে মেতে ওঠেন একে অপরের সাথে। তবে এতকিছুর পরও সকলের মনে ছিল বিদায়ের করুন সুর।পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাদল চক্রবর্তী প্রধানমন্ত্রী ও খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন- এ বছর দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগীতা দিয়েছে প্রশাসন। দুর্গোৎসবকে ঘিরে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহীনি পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসার, ভিডিপি ও সেচ্ছাসেবকরা সর্বদা দ্বায়িত্ব পালন করেছে। দূর্ঘটনা এড়াতে সারাক্ষন প্রস্তুত ছিল ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টীম। পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক কমল মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন- আমাদের এ উৎসব সম্প্রীতির আরেক নিদর্শন। এ পূজাকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গন ও আশপাশে বসানো হয়েছে তৈজসপত্র ও নিত্যপ্রয়োজেনীয় গৃহস্থলী সামগ্রীর গ্রামীণ মেলা। মেলায় আসেন হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধসহ সকল সম্প্রদায়ের দর্শনার্থী। তারা এক দোকান হতে আরেক দোকান ঘুরে দেখেন এবং নিজেদের পছন্দমত কেনাকাটা করেন। যা সম্প্রীতির উজ্জল দৃষ্টান্ত। রামগড় পৌর বিএনপির সভাপতি বাহার উদ্দিন বলেন- সকল সস্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত,শান্তিপুর্ণ বসবাস এবং ধর্মীয় উৎসব পালনে সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী এবং খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য জনবান্ধব প্রিয় নেতা ওয়াদুদ ভূইয়ার নির্দেশনা ছিল। দূর্গাপূজায় কোন ধরণের অপ্রিতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সনাতনী ভক্তরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি অনুযায়ী স্বাধীনভাবে উৎসব পালন করতে পারে তার জন্য উপজেলা ও পৌর বিএনপি পরিবার সবসময় খোজঁ খবর রেখেছি। নবমীর সন্ধ্যায় আমাদের এমপি মহোদয় ওয়াদুদ ভূইয়া পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন সার্বিক খোঁজ খবর নেন এবং সনাতনী নেতৃবৃন্দ ও পূর্ণার্থীদের সাথে মতবিনিময় করেন।

পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিচয় বহন করে: খাদ্যমন্ত্রী
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিচয় বহন করে। এই সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ধরে রাখতে সবাইকে সহনশীল হতে হবে। সবাই মিলেমিশে কাজ করলে এলাকার উন্নয়ন হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) সিংগাইর পৌর এলাকার আঙ্গাড়িয়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর ফেসিস্ট সরকারের আমল ও দলের দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে মানিকগঞ্জের যারা আমার পাশে ছিলেন, তাঁদের ত্যাগের কারণে আজ এই অবস্থান। এ জন্য মানিকগঞ্জবাসীর প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি আরও বলেন, কে ভোট দিয়েছেন আর কে দেয়নি তা বিবেচনা না করে সকল মানুষের জন্য জনপ্রতিনিধিদের কাজ করতে হবে।‘ধর্ম, বর্ণ, দল, মত নির্বিশেষে জনগণের স্বপ্ন পূরণে আমি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবো। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা। দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে এক্যবদ্ধভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ভোটের ক্ষেত্রে টাকার প্রলোভনে না পড়ে সৎ ও যোগ্য মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও দলীয় কোন্দলের কারণে যেন এলাকার উন্নয়ন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। বাবু জতিন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে ও উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক সাইদুর রহমান সাগরের সঞ্চালনায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুন্নাহার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর তাজ আলম বাহার ও জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ। এসময় সহকারি পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) মো: ফাহিম আসজাদ, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আল আমিন কবির, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মাজহারুল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম বাদল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবিদুর রহমান খান রোমান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম ভূইয়া জয়, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহাবুবুর রহমান মিঠু, যুগ্ম-সম্পাদক আওলাদ হোসেন (এজিএস), আওলাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাজেদুল আলম স্বাধীন, প্রচার সম্পাদক ইলিয়াছ হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সায়েদ আলী, জিন্নত আলী, যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম শ্যামল, যুগ্ম-সম্পাদক রিপন উদ্দিন, যুগ্ম-সম্পাদক আতাউর রহমান আতা, ইমরান খান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুর রহমান আকুল, উপজেলা কৃষকদলের সিনিয়র সভাপতি বিপ্লব দেওয়ান, সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, পৌর কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক জাহাবুল হক, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক কামাল হোসেন, জাকির হোসেন বেলায়েত, ধল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, জামির্তা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সায়েস্তা ইউনিয়ন বিএনপির সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক শরীফ হোসেন মৃধা, তালেবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক তারা মিয়া, চারিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমাস কবির, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাকিল, পৌর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক রাসেল ও কলেজ ছাত্রদল নেতা শাহিলসহ উপজেলা, পৌর ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি, কৃষকদল, যুবদল, স্বেচ্চাসেবকদল এবং ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিন হরিরামপুর, দৌলতপুর, ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার আরও ৭ টি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। এসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের খোঁজখবর, শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজামণ্ডপে আর্থিক অনুদান দেন তিনি।

অস্থিত্ব সংকটে জীবনানন্দ দাশের পৈত্রিক ভিটা ও সেই ধানসিঁড়ি নদী!
২২ অক্টোবর রূপসী বাংলার প্রখ্যাত কবি জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যু বার্ষিকী। ১৯৫৪ সালের ২২অক্টোবর জীবনানন্দ দাশ পরলোক গমন করেন। তার পৈত্রিক বাড়ী ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের বামনকাঠি গ্রামে। বামনকাঠি এলাকায় কবির পৈত্রিকভিটা অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। এমনকি জীবনানন্দ দাশের কবিতার বিখ্যাত সেই ধানসিঁড়ি নদী আজ অস্তিত্ব হারিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু পর্যটক জীবনানন্দের জন্মভিটা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। জীবনানন্দ দাশ তার শৈশব থেকে কৈশোর এমনকি যৌবনের অনেক সময় পার করেছেন রাজাপুরের এই বামনকাঠি এলাকায়। ওই সময়ই কবি ধানসিঁড়ি নদীর প্রেমে পড়েন। এরপর তার বহু লেখনীতে ধানসিঁড়ি নদীর রূপ নিয়ে তিনি লেখেন। কবির লেখনীতে সেই ধানসিঁড়ি নদী পরিচিতি পায় দেশ-বিদেশে। কিন্তু কালের স্রোতে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই জীবনানন্দ দাশের ধানসিঁড়ি নদী। একসময়ের খরস্রোত ধানসিঁড়ি নদী এখন মরা খালে পরিনত হয়েছে। বছর চারেক আগে নামে মাত্র খনন করা হয়েছে। ধানসিঁড়ি নদীর পাড়েই নির্মান করা হয়েছে জীবনানন্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগার। কিছুটা হলেও ফিরেছে ধানসিঁড়ি নদীর যৌবন। রাজাপুর থেকে ঝালকাঠি গাবখান পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটারের অর্ধেকেরও বেশি অংশ রয়েছে অস্থিত্ব সংকটে। নদীর এই অংশে বর্তমানে কচুরিপানায় ভরাট হয়ে পানি প্রবাহও প্রায় বন্ধের পথে। বর্ষা মৌসুমে পাঁচ থেকে ছয় ফিট পানি থাকলেও বছরের বেশিরভাগ সময়ে নদী থাকে শুকনো। অপরদিকে ধানসিঁড়ি নদীর পার্শ্ববর্তী বামনকাঠী এলাকায় জীবনানন্দ দাশের পৈত্রিক ভিটেও আজ জঙ্গলঘেরা। বিস্তৃর্ণ ধানক্ষেত আর মেঠো পথের এক প্রান্তে কোন মতে দাঁড়িয়ে আছে সেটি। কিছু গাছপালা ও একটি পুকুর ছাড়া অবশিষ্ট আর কিছুই নেই সেখানে। বছর চল্লিশ আগেও পূর্বপুরুষরা এখানে বসবাস করতেন। সবকিছু ছেড়ে কলকাতা পাড়ি জমিয়েছেন তারাও। তবে স্থানীয়দের কাছে এখনও ওই বাড়িটি ‘দাশের ভিটা’ নামে পরিচিত। বামনকাঠি এলাকার সত্তরোর্ধ রমজান আলী বলেন, চল্লিশ বছর আগেও দাশের বাড়িতে অধি দাশ ও ভোলা দাশ নামে জীবনানন্দ দাসের দুই বংশোধর বসবাস করতেন। ওই সময় একটি ডাকাতির ঘটনায় দুই ডাকাত গনপিটুনিতে নিহত হওয়ার পর তারা পুলিশি হয়রানির ভয়ে দেশ ছেড়ে ভারত চলে গেছেন। এরপর থেকে ছাড়া ভিটায় পরিনত হয়েছে কবির জন্মস্থানটি।’ বামনকাঠি এলাকার আলী সিকদার বলেন, কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু লোক আমাদের এখানে জীবনানন্দ দাশের বাড়ি দেখতে আসে। কিন্তু তারা শুধু জঙ্গল দেখে ফিরে যায়। আমরাও বিব্রত হই। আমাদের দাবী জীবনানন্দ দাশের বাড়িটিতে একটি স্মৃতি ফলক দিয়ে এটি সংরক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হোক।’ রাজাপুর সরকারী কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক প্রভাষক মোঃ সোহরাব হোসেন দীর্ঘ দিন গবেষনা করেছেন কবিকে নিয়ে এবং তার স্বজনদের খোঁজে একাধিকবার কোলকাতায় গিয়ে তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি আরো জানিয়েছে কবির পূর্ব পুরুষদের বাড়ী ফরিদপুর জেলায়। সেখানে নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে কবির দাদা সদানন্দ দাস তার তিন ছেলেকে নিয়ে এই বামনকাঠি গ্রামের সেন বাড়ীতে আশ্রয় নেয় এবং এখানেই সর্বানন্দ দাসের ঘরে ১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারী কবি জীবনানন্দ দাশের জন্ম হয়।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরী বলেন, আপনারা জানেন ইতো মধ্যেই জীবনানন্দ দাশের ধানসিঁড়ি নদী খনন করা হয়েছে এবং ধানসিঁড়ি নদীর পাড়ে রূপসী বাংলার কবিকে বর্তমান প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তার স্মৃতি রক্ষায় জীবনান্দ দাশ সংগ্রহশালা ও পাঠাগার নির্মান করা হয়েছে। শীঘ্রই তার পৈর্তৃক ভিটা সংরক্ষনের জন্য সংস্কিৃতি মন্ত্রনালয় বরাবরে আবেদন করা হবে।

