গরম ধোঁয়াওঠা চা নিমেষে পান করে ফেলেন। অন্য কেউ তা না পারলে, রীতিমত হাসাহাসি করেন তাকে নিয়ে। জানেন কি, এই অভ্যাস আপনার মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে! হতে পারে ক্যানসারের মতো ভয়াবহ মারণরোগ (Health Risk)।
চিকিৎসকরা বলেন, এমন করলে সবচাইতে বেশি ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা যায় খাদ্যনালীটির ক্ষেত্রে। আচমকা ফুটন্ত তরল তাতে ঢেলে দিলে, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে খাদ্যনালী। খাদ্যনালির ভিতরের আবরণ এপিথেলিয়াল কোষ দিয়ে তৈরি, যা ভিতরের টিস্যুগুলিকে সুরক্ষা দেয়। অত্যন্ত গরম তরল এই আবরণে আঘাত করতে পারে। হয়তো এক-দুবারে ক্ষতি বোঝা যাবে না, কিন্তু বারবার এমন হলে টিস্যুর ক্ষয় হতে থাকে। কেবল চা-কফি নয়, শীতকালে অত্যন্ত গরম স্যুপ পান করলেও একই ধরনের সমস্যা হতে পারে।
শরীর নতুন কোষ তৈরি করে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু সারিয়ে তোলে। কিন্তু বারবার আঘাত লাগা এবং সেই ক্ষতি সারানোর প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে কোষে পরিবর্তন ঘটে।
অত্যন্ত গরম পানীয় পান করলে শরীরে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে?
১. জিভ ও মুখে জ্বালা: গরম পানীয় পান করার পর জিভ, ঠোঁট বা মুখের ভিতরে জ্বালাভাব হতে পারে। বেশি পুড়ে গেলে ফোসকা বা ব্যথাও দেখা দিতে পারে।
২. গলায় ব্যথা বা অস্বস্তি: অত্যন্ত গরম পানীয় গলার ভিতরের আবরণে আঘাত করলে ব্যথা, জ্বালা কিংবা অস্বস্তি হতে পারে।
৩. খাবার গিলতে ব্যথা: গরম পানীয়ের কারণে মুখ বা খাদ্যনালিতে আঘাত লাগলে খাবার বা জল গেলার সময় ব্যথা হতে পারে।
৪. বুকে অস্বস্তি: খাদ্যনালিতে প্রদাহ বা অন্য কোনও সমস্যা হলে বুকের মাঝখানে ব্যথা কিংবা অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।
৫. অকারণে ওজন কমে যাওয়া: কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
