জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং সামাজিক বৈষম্যের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। শনিবারের এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নের দাবি জানান।
রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় এলাকায়, বিশেষ করে শঁজেলিজে সড়ক ও আর্ক দ্য ত্রিয়ম্ফের আশপাশে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। দেশটির বিভিন্ন স্থানে শত শত বিক্ষোভের পরিকল্পনা করা হয়। মার্সেই শহরে কয়েকটি ময়লার পাত্রে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বিক্ষোভকারীদের একজন ১৯ বছর বয়সী লোলা বলেন, জীবনযাত্রা ও জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যয় তাদের চাপে ফেলেছে। শিক্ষার্থীরা আরও শিক্ষক ও ভালো শিক্ষার পরিবেশের দাবিতে আন্দোলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত মাসে প্যারিসের দরিদ্র উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপস্থিতি ও দুর্বল অবকাঠামোর প্রতিবাদ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত। পরে তা বৈষম্য, সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং জনসেবার মান কমে যাওয়ার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়।
প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা হয়। আন্দোলনকারীদের আহত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশের অভ্যন্তরীণ নজরদারি সংস্থা।
২০১৮ সালে ডিজেলের ওপর কর বৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন শুরু হয়েছিল। পরে তা জীবনযাত্রার ব্যয় ও আয়বৈষম্যের বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নেয়। এবারের বিক্ষোভেও সেই আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।
সূত্র: রয়টার্স
