ম্যাচ শুরুর আগে দলের সবাই যখন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, তখনই এলো চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর। গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের আগে এমন খবরে খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থায় প্রভাব পড়া অস্বাভাবিক নয়। আর এই সময় নিয়েই ক্ষোভ ঝাড়লেন হোসে মরিনহো।
রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ঘটনায় নয়, বরং সেই সিদ্ধান্ত জানানোর সময় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোচ হোসে মরিনহো। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে নিষেধাজ্ঞার খবর জানানোয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
১৪ অক্টোবর (বুধবার) ইতালির ক্লাব এএস রোমার বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলতে নামে রিয়াল মাদ্রিদ। ওই ম্যাচের আগে ভিনিসিয়াসের চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর প্রকাশ্যে আসে। মরিনহোর মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগে এই খবর জানানো খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মরিনহো প্রশ্ন তোলেন, স্পেনের একটি ক্লাবের খেলোয়াড়কে ম্যাচ শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার খবর জানানো কি স্বাভাবিক? তিনি বলেন, ‘এটা কি স্বাভাবিক? খবরটি কি এখন জানানো যেত না? অথবা আগামীকাল সকালে? খেলোয়াড়টিকে কি সত্যিই দলের বাসে বসে এই খবর জানতে হতো?’
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মরিনহো আরও বলেন, ‘তাদের কোনো লজ্জা নেই। এখন সবকিছু প্রকাশ্যে চলে এসেছে। তারা আর কিছু লুকিয়ে রাখছে না।’
ম্যাচের ঠিক আগে এমন খবর জানানোকে খেলোয়াড়ের মানসিক অবস্থার ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা হিসেবে দেখছেন মরিনহো। তার ভাষায়, ‘ম্যাচ শুরুর এক ঘণ্টা আগে তারা খেলোয়াড়টিকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করেছে।’
কী কারণে নিষিদ্ধ হলেন ভিনিসিয়াস?
স্প্যানিশ লা লিগায় ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ম্যাচে একটি ঘটনার জেরে লাল কার্ড দেখেছিলেন ভিনিসিয়াস। প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের চুল টেনে ধরার ঘটনায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে স্প্যানিশ ফুটবলের শৃঙ্খলা কমিটি তাঁকে চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিয়াল মাদ্রিদের অফিসিয়াল প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার জন্য দুই ম্যাচ এবং রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করার কারণে আরও দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে লা লিগায় সেভিয়া, বার্সেলোনা, রেসিং সান্তানদের ও ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
সিদ্ধান্তের সময় নিয়েই মূল আপত্তি
মরিনহোর আপত্তির মূল জায়গা নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের চেয়ে সেটি জানানোর সময়। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগে এমন খবর খেলোয়াড়কে মানসিক চাপে ফেলতে পারে। এ কারণেই সিদ্ধান্তটি আরও আগে বা ম্যাচের পরে জানানো যেত কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
