চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার বেগমপুর (বিলপাড়া) গ্রামে আদালতের স্থিতিতাবস্থার আদেশ ও উপজেলা ভূমি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে এক বৃদ্ধ চা-দোকানির জমি দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। জমিতে বাধা দিতে গেলে ওই বৃদ্ধকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে বেগমপুর বিলপাড়ায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. সিরাজুল ইসলাম (৬১)। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুল কাদের প্রধানের ছেলে।
লিখিত বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম জানান, ১৯৯০ সালে বেগমপুর বিলপাড়া মাঠে ৩০ শতক জমি কিনে তিনি দীর্ঘ ৩৬ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তবে ২০২৩ সালের ২৭ জুন একই এলাকার হাবিবুর রহমান বেঙ্গার ছেলে মো. জাকির হোসেন (৩৮) তাঁর কেনা জমির ৭ শতক জোরপূর্বক দখল করে পাকা ঘর নির্মাণের চেষ্টা করেন।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ২০২৩ সালের ৫ জুলাই তিনি আদালতে মামলা করেন। আদালত বিষয়টি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) নির্দেশ দেন। সিরাজুল ইসলামের দাবি, শুনানিতে বিবাদী জাকির হোসেন জমির পক্ষে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সিরাজুল ইসলামের পক্ষে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
পরবর্তী সময়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আদালত স্থিতিতাবস্থা (স্ট্যাটাস কো) বজায় রাখার আদেশ দেন। এ-সংক্রান্ত পিটিশন মামলা নম্বর ১৫০/২০২৩। আদালতের আদেশের পর বেগমপুর পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিন উভয় পক্ষকে লিখিত নোটিশ দিয়ে বিরোধপূর্ণ জমিতে সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
সিরাজুল ইসলামের অভিযোগ, বিবাদী জাকির হোসেন আদালতের আদেশ ও পুলিশের নোটিশ উপেক্ষা করে গত ১৫ অক্টোবর থেকে আবারও ওই জমিতে প্রবেশ করে পাকা ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন। এতে বাধা দিতে গেলে জাকির ও তার লোকজন তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের চেষ্টা চালান। একই সঙ্গে ওই জমিতে আবার গেলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, এসব হুমকির কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় গত ২০ অক্টোবর তিনি দর্শনা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বৈধ জমি রক্ষায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সিরাজুল ইসলামের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
