পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা যায়, অধিক লাভের আশ্বাস দিয়ে রমজান আলী শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা ইউনিয়ন, শেরপুর পৌরসভা ও ভাতশালা ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষক, ধান ব্যবসায়ী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা সংগ্রহ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে টাকা নিয়ে তিনি আত্মগোপনে চলে যান বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পাওনা টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় অনেকেই শেরপুর সদর থানায় যোগাযোগ করছেন। থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১১ জন ভুক্তভোগী তাঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগকারীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অনেকে জানান, অধিক মুনাফার আশায় তাঁরা নিজেদের সঞ্চিত অর্থ ও ব্যবসার পুঁজি রমজান আলীর কাছে দিয়েছিলেন। এখন সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় তাঁরা আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, পাওনা অর্থ উদ্ধার করা সম্ভব না হলে অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়ে পড়বে এবং কাউকে কাউকে পথে বসতে হবে।
শেরপুর সদর থানার সেকেন্ড অফিসার আমিনুল ইসলাম রমজান আলীকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, তাঁকে আটকের পর অনেক মানুষ তাঁর কাছে টাকা পাওয়ার অভিযোগ নিয়ে থানায় আসছেন। এ পর্যন্ত ১১ জন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগীরা তাঁদের পাওনা টাকা উদ্ধারে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, ভুক্তভোগীর সংখ্যা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। রমজান আলীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আইনগত প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
The post শেরপুরে ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রমজান আলী গ্রেপ্তার appeared first on ভোরের চেতনা.
