
দখল ও ভাঙনে বিপর্যস্ত ভৈরব নদ, হুমকিতে শিল্পনগরী
যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদের বিভিন্ন স্থানে দখল ও ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। নদীর জায়গায় কৃত্রিম চর তৈরি করে ঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নদের স্বাভাবিক প্রবাহ ও নাব্যতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি নদীতীরের ভাঙনে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার রাজঘাট থেকে বসুন্দিয়া ইউনিয়নের আফ্রা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নওয়াপাড়া নদীবন্দর বিস্তৃত। নৌ, সড়ক ও রেল যোগাযোগের সুবিধার কারণে এ অঞ্চল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানে সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লাসহ বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠেছে। নদীর নাব্যতা কমে গেলে পণ্য পরিবহন ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর বিভিন্ন স্থানে মাটি ও বালু ফেলে কৃত্রিম চর তৈরি করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে নদীর অংশবিশেষ ঘিরে ভরাটের চেষ্টা চলছে। এতে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া ও কোনো কোনো স্থানে গতিপথ পরিবর্তনের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। তবে দখলের পরিমাণ এবং ভাঙনের সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের সম্পর্ক নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরিপ প্রয়োজন।
নওয়াপাড়া নদীবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৭ সালে বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে এখানে নয়টি সরকারি জেটি রয়েছে। পাশাপাশি ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রায় ১০০টি ঘাট রয়েছে বলে জানা গেছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে গাইডওয়াল, স্থায়ী জেটি ও কাস্টমস ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছিল।
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল হোসেন বলেন, নওয়াপাড়ায় প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। নদীর নাব্যতা রক্ষা করা না গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে গম ও চালের সরবরাহ কমেছে এবং কয়লা আসাও আগের তুলনায় কমে গেছে বলে তিনি জানান।
নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলের অভিযোগ তদন্ত, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ভৈরব নদ রক্ষা করা গেলে নওয়াপাড়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন ও স্থানীয় মানুষের জীবিকা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নওয়াপাড়া নদীবন্দরের উপপরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, কৃত্রিম চর তৈরি করে নদী দখলের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের তালিকা করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
