বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ ও দখলকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের দুই গ্রুপের ধাওয়া, পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সেলিম ভূঁইয়া গ্রুপ ও মোখলেছুর গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। এতে মেহেদী (৩৫) ও শহীদ (৪৫) নামে দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
এদিকে, সংঘর্ষের পর শহরের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে মোটরসাইকেল নিয়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি পক্ষের সদস্যদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে।
স্থানীয়দের কাছে জানা গেছে, বাগেরহাট বাসস্ট্যান্ড শ্রমিক ইউনিয়নের আধিপত্য বজায় রাখা ও দখলকে কেন্দ্র করে শ্রমিক দলের সেলিম ভূঁইয়া ও মোখলেছুর গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের অনুসারীরা মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের হামলায় মেহেদী ও শহীদ গুরুতর আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ ঘটনার পরপরই ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেলে চড়ে এক দল যুবক হাতে রামদা ও নানা ধরনের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শহরের প্রধান প্রধান এলাকায় মহড়া দেয়। জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শন করে মহড়ার কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটিয়েছে।
সংঘর্ষের ঘটনাস্থল থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি পিস্তল উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি কীভাবে সেখানে এলো, কারা এটি বহন করেছিল এবং তা ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জামিরুল ইসলাম জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষ হয়। এতে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল কুড়িয়ে পেয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে।
এদিকে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং সহিংস সংঘর্ষের কারণে বাগেরহাট শহরজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। অতি দ্রুত অপরাধিদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা এবং সার্বিক জননিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
