রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ নেতারা একটি ছোট গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবসহ কয়েকজন নেতাকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের প্রতিবাদে দিল্লিতে বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে মিছিল, তাতে পুলিশের বাধা, কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন ঘিরে গতকাল দিনভর উত্তপ্ত ছিল দিল্লি।
এদিন দুপুরে শুরু হয় ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেয়া এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিচারিক তদন্ত চেয়ে নেতারা আদালতের দিকে এগোতে থাকেন। কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত এ বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা ব্যানার্জী, আরজেডির তেজস্বী যাদব, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডিসহ ইন্ডিয়া জোটে শামিল দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
সুপ্রিম কোর্ট থেকে প্রায় ৬০০ মিটার দূরে ভগবান দাস রোডের কাছে মিছিলটি পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাক্কাধাক্কিও হয়। রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ নেতারা একটি ছোট গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়গে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদবসহ কয়েকজন নেতাকে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।
এ সময় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ভোটার বাদ দেয়ার ক্ষেত্রে অসংগতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন তারা। এতে উল্লেখ করা হয়, এসআইআর-সংক্রান্ত সব নথি ও সিদ্ধান্তের রেকর্ড আদালতে জমা দিতে হবে; এসআইআর কার্যক্রমের সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা পরীক্ষা করতে হবে; অনিয়মের জন্য দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় নেয়া হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে; অনলাইন ফর্ম-৬ নির্ধারিত বিধিমালা অনুযায়ী করতে হবে; অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে স্বাধীন তদন্ত ও নিরীক্ষা কমিটি গঠন করতে হবে; ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের নাম ও বাদ দেয়ার কারণ প্রকাশ করতে হবে; যথাযথ নোটিস ও শুনানির সুযোগ ছাড়া কোনো ভোটারের নাম বাদ দেয়া যাবে না; মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশজুড়ে চলমান এসআইআর কার্যক্রম স্থগিত করতে হবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটাধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য নির্দেশ দিতে হবে।
আইনজীবী এস প্রসন্নের মাধ্যমে আবেদনটি করা হয়েছে। এতে বিবাদী হিসেবে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির নাম রয়েছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর সঙ্গে সাক্ষাতের আহ্বান জানানো হয়। তবে এতে সাড়া দেননি তিনি। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের কাছে এ ধরনের পদক্ষেপ প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে সংবিধান অনুযায়ী, বিরোধী নেতাদের চিঠিতে যে বিষয়গুলোর উল্লেখ রয়েছে তার ওপর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের নেই। তবে প্রধান বিচারপতি বলেছেন যে সংবিধানের ৩২ নং অনুচ্ছেদ এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার মতো ক্ষমতার অধীনে সুপ্রিম কোর্ট নাগরিকদের অধিকার-সম্পর্কিত বিষয়গুলো শুনতে ও নিষ্পত্তি করতে বাধ্য।
