কেরালার রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বিতর্কে জড়ালেন ওমপ্রকাশ মাথুর।
Published on
:
1 min read
কেরালার রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই বিতর্কে জড়ালেন ওমপ্রকাশ মাথুর। শুক্রবার দায়িত্ব গ্রহণের পরেই তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, লোকভবনের আর কোনও রকম আমিষ খাবার পরিবেশন করা যাবে না। হেঁশেলেও এ বার থেকে শুধু নিরামিষ খাবারই তৈরি হবে। রাজ্যপালের এই নির্দেশের সমালোচনায় একযোগে সরব হয়েছে শাসকদল কংগ্রেস এবং বিরোধী দল সিপিএম। তাদের অভিযোগ, সঙ্ঘ পরিবারের ‘অ্যাজেন্ডা’, অর্থাৎ দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন রাজ্যপাল।
শুক্রবার সকালে কেরালা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেনের কাছে শপথ নেন ওমপ্রকাশ। তার পরেই লোকভবন থেকে এই নির্দেশিকা জারি হয়। লোকভবন থেকে জানানো হয়েছে, মাথুর নিজে নিরামিশাষী। সেই কারণেই এই নির্দেশিকা। লোকভবনের অন্য কর্মীদের খাদ্যাভাসের উপরে কোনও রকম বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি। কর্মীরা চাইলে বাড়ি থেকে খাবার আনতে পারেন। কিংবা বাইরে খেতে পারেন।
কিন্তু লোকভবনের এই বার্তায় সন্তুষ্ট নয় কংগ্রেস এবং সিপিএম। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালের অভিযোগ, রাজ্যপাল এক্তিয়ার-বহির্ভূত কাজ করছেন। কেরালা একটি উপকূলীয় রাজ্য। এখানকার মানুষের খাদ্যাভাস বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন ধরনের মাছও পাওয়া যায়। সেই কেরালাবাসীর খাদ্যাভ্যাসে এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। বেণুগোপাল বলেন, ‘সাংবিধানিক পদে বসে রাজ্যপালের দায়িত্ব মানুষের অধিকার রক্ষা করা। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে উনিই নিজের খাদ্যাভাস অন্যদের উপরে চাপিয়ে দিচ্ছেন। এটা ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।’
রাজ্যপালের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে সিপিএমও। তাদের রাজ্য সম্পাদক এমভি গোবিন্দন বলেন, ‘ভারত এমন একটা দেশ যেখানে খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। সেই অধিকার ছিনিয়েও নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নেপথ্যে রয়েছে সংঘ পরিবারের সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের অ্যাজেন্ডা।’ খাবারকেও সাম্প্রদায়িক অস্ত্রে পরিণত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
