নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
খোলাবাজারে বিক্রি (ওএমএস) ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার নিয়োগে নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। নীতিমালাটি কার্যকর হলে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। জাতীয় সংসদ ভবনে আজ বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে মন্ত্রণালয় এ আশাবাদ জানায়।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টুর সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, আবুল কালাম, আবু তালেব মণ্ডল, আব্দুল করিম এবং শামছুন্নাহার বেগম।
বৈঠকে মন্ত্রণালয় জানায়, ওএমএস এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ডিলার নিয়োগের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এই নীতিমালা হলে ডিলার নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু বলেন, ‘জনগণের কাছে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’ এ লক্ষ্যে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। খাদ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে উপকারভোগী নির্ধারণে যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, সে জন্য এ প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল পদ্ধতি অনুসরণের সুপারিশ করেন তিনি। পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে কমিটির সদস্যসহ সংশ্লিষ্ট সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোতে ৬ হাজার ৬৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব পদে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের কার্যক্রম বন্ধ করে দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে শূন্য পদ পূরণের সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেন, শিশুখাদ্যসহ সব ধরনের খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ যাতে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে, সে জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তাসহ শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিটি কার্যালয়ে মিনি ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং খাদ্যে ভেজাল পর্যবেক্ষণের জন্য মোবাইল ভ্যান সরবরাহের কাজও চলমান রয়েছে।
বৈঠকে অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ দিন দিন কমে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ পরিস্থিতিতে কৃষিজমি সংরক্ষণ এবং অকৃষিকাজে কৃষিজমির অননুমোদিত ব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

