Published on
:
2 min read
এই সময়, ঝাড়গ্রাম: কর্মক্ষেত্র হোক কিংবা স্কুল। ভরসা রেলপথ। কিন্তু মাঝেমধ্যেই ট্রেন লেট। ফলে গন্তব্যে পৌঁছতে হয়রান হতে হচ্ছে মানুষকে। রেলযাত্রীদের সমস্যা ও অভিযোগের কথা জানতে দক্ষিণ–পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের উদ্যোগে ঝাড়গ্রাম রেল স্টেশনে বৃহস্পতিবার আয়োজিত হয় ‘জন সংবাদ’ কর্মসূচি। যেখানে রেল যাত্রীরা তাঁদের সমস্যার কথা রেলের কাছে নথিভুক্ত করেন। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম রেল স্টেশনে দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ, লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো, ঝাড়গ্রাম-হাওড়া লোকাল চালু করা, সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচলের দাবি জানানো হয় ঝাড়গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে।
জঙ্গলমহল স্বরাজ মোর্চার তরফে একই দাবিতে ‘জন সংবাদে’ হাজির থাকা রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের কাছে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়। মোর্চার কেন্দ্রীয় সভাপতি অশোক মাহাতো বলেন, ‘খড়্গপুর ডিভিশনের খড়্গপুর-টাটানগর শাখায় প্রতিনিয়ত ট্রেন দেরিতে চলাচল করছে। ট্রেনের উপরে ভরসা করে কর্মস্থানে পৌঁছতে দেরি হচ্ছে এবং মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রান হচ্ছেন। ফলে সময়ে ট্রেন চালানোর দাবি–সহ একাধিক বিষয় জানানো হয়েছে।’
অন্য দিকে, হাওড়া-খড়্গপুর শাখায় লোকাল ট্রেনগুলিকে ঝাড়গ্রাম স্টেশন পর্যন্ত চালানো, গীতাঞ্জলি এক্সপ্রেস, আজাদ হিন্দ এক্সপ্রেসের মতো দূরপাল্লার ট্রেনগুলির স্টপেজ এবং ট্রেনের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সময়ে ট্রেন চলাচলের দাবিতে বুধবার ইমেলের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী, দক্ষিণ–পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার, খড়্গপুর ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার, ঝাড়গ্রামের সাংসদ কালীপদ সরেনের কাছে দাবি জানিয়েছে রেলের পশ্চিমবঙ্গ নিত্যযাত্রী সমিতির ঝাড়গ্রাম শাখা।
সংগঠনের ঝাড়গ্রাম শাখার সম্পাদক সৌগত মাহাতো বলেন, ‘ঝাড়গ্রাম একটি জেলা শহর। পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ ট্রেনের উপরে ভরসা করে যাতায়াত করেন। ঝাড়গ্রাম থেকে হাওড়া যাওয়ার লোকাল ট্রেন নেই। খড়্গপুর থেকে ট্রেন বদলে যেতে হয়। করোনা পরিস্থিতির পরে ট্রেনের সংখ্যাও কমেছে। দূরপাল্লার ট্রেনের স্টপেজ নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন দেরিতে চলাচল করায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে নিত্যযাত্রীদের। সমস্যাগুলির সমাধানে রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে দেশের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধি এবং আধিকারিকদের কাছে ইমেল মারফত দাবি জানানো হয়েছে।’ যদিও রেলের দাবি, রেললাইন সম্প্রসারণ এবং একাধিক জায়গায় আধুনিকিকরণের কাজ হাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সময়সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচলে দেরি হচ্ছে। তবে তা আগামী দিনে মিটে যাবে।
