সড়কের পাশে ময়লা জমে থাকা বা নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ার মতো নগরবাসীদের দৈনন্দিন ভোগান্তি নিরসনে দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ডিজিটাল অ্যাপ ‘ক্লিন কেয়ার’। সমস্যা জানানোর জটিল প্রক্রিয়া এড়িয়ে নাগরিকরা এখন সরাসরি এই অ্যাপের মাধ্যমেই কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অভিযোগ পৌঁছে দিচ্ছেন।
বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে গত ৭ জুলাই ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয় এবং ১ আগস্ট থেকে এর পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা হয়। চালুর পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ইতিবাচক সাড়াতে আলোচনায় এসেছে এই নতুন প্ল্যাটফর্মটি।
ডিএসসিসির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপটিতে মোট ২ হাজার ৮১০টি পরিচ্ছন্নতাবিষয়ক অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি অভিযোগের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর সমাধান দেওয়া হয়েছে, যা প্রাপ্ত মোট অভিযোগের প্রায় ৭৪.৪৫ শতাংশ। এছাড়া ৬৫৫টি অভিযোগ সমাধানের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর বাকি ২৪৬টি অভিযোগ রাজউক, ওয়াসা, ডিপিডিসি কিংবা রেলওয়ের আওতাধীন হওয়ায় তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অ্যাপটির সেবায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সেবাগ্রহীতারাও। ডিএসসিসি জানায়, অ্যাপ ব্যবহারকারীদের মোট ৪৩৩টি নাগরিক রিভিউর মধ্যে ৩৬১টি রিভিউ ছিল সম্পূর্ণ ইতিবাচক, যা শতকরা হিসেবে প্রায় ৮৩.৩৭ শতাংশ। অ্যাপটির গড় রেটিং দাঁড়িয়েছে ৫-এর মধ্যে ৪.৫।
এই উদ্যোগের সফলতা সম্পর্কে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, “একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন আধুনিক ঢাকা গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের প্রতি আস্থা রাখার জন্য নগরবাসীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং আগামীতে সিটি করপোরেশনের অন্যান্য নাগরিক সেবাসমূহকেও এই একক অ্যাপের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপটিতে অভিযোগ নেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে অভিযোগ নিষ্পত্তি হচ্ছে কি না এবং একই স্থানে বারবার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে কি না—তা নিয়মিত তদারকি করা প্রয়োজন। নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারলে ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপটি আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।
