কুমিল্লা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিস থেকে ভূমি পর্চার জন্য ঘুষ গ্রহণের সময় মোবাইল ভিডিওতে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীকে হেনস্তা করা হলে তিনি ৯৯৯ নম্বরে কল দেন৷
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তার নিরাপদে আছেন এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
ভুক্তভোগী মো. ফাহিম জানান, দুই মাস পূর্বে নিজ বাড়ির ভূমি পর্চার জন্য কুমিল্লা জোনাল অফিসে আসেন তিনি৷ তার কাছ থেকে পাঁচশত টাকা দাবি করেন রেকর্ড কিপার। এই টাকা প্রদানের সময় তিনি ভিডিও ধারণ করেন। তবে এ সেবার জন্য কোনো সরকার-নির্ধারিত ফি নেই৷ পরের সপ্তাহে তিনি দপ্তরে গিয়ে জানতে পারেন যে কাজটিতে সময় লাগবে। পরবর্তীতে ভূমি সেবার জন্য অন্য গ্রাহকদের থেকেও ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ধারণ করেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) কেন এ টাকা আদায় করা হয়—কর্মকর্তাকে এমন প্রশ্ন করলে তিনি সেবাগ্রহীতার সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়ান৷ এমনকি অফিসে অবস্থানরত বহিরাগত দালালদের লেলিয়ে দেন তাঁকে হেনস্তা করার জন্য।
এ ঘটনায় ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার চার সদস্যের একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মেহরাপ হোসেন। তিনি কুমিল্লা পুরাতন জেলা পরিষদ ভবনে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে ভারপ্রাপ্ত রেকর্ড কিপার পদে দায়িত্বে আছেন৷ এ ঘটনার পর তিনি গণমাধ্যমে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ তাঁর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলার জন্য বলেন।
এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার (যুগ্মসচিব) মীর শওকত হোসেন এবং সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসার শাখাওয়াত হোসেনকে একাধিকবার কল দিয়েও পাওয়া যায়নি৷ ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোনো জবাব দেননি কর্মকর্তারা।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। উভয় পক্ষকে শান্ত করি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি৷ ভুক্তভোগীকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।
