আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'অনৈতিক কাজ'-এর অপরাধে গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি দম্পতির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশ্যে আসে। যা নিয়ে জোর চর্চা। উত্তাল বাংলাদেশ। নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে। কিন্তু এই দম্পতি আসলে কারা?
জানা গিয়েছে যে, মহিলার নাম সুইটি আক্তার। তিনি টাঙাইলের বাসিন্দা। পুরুষের নাম নজরুল ইসলাম আবদুল বশির।
বাংলাদেশি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুসারে, সুইটি আক্তারের জন্ম ২০০১ সালের ১১ আগস্ট। কাজের খোঁজে ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। ‘এস রানা ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে তাঁর বিদেশযাত্রা। সৌদিতে সুইটি-র নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ‘আল মাজাল আল আরাবি গ্রুপ কোম্পানি’।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, 'অনৈতিক কাজ'-এর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর তদন্ত শেষে ওই দম্পতিকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আদালত তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও রাজকীয় আদেশের পর ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে ঠিক কী ধরনের কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের এই চরম শাস্তি পেতে হল সে বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি।
জেড্ডায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে বিষয়টি জানায়নি। খবর প্রকাশের পরই এ নিয়ে জানাজানি হয়। তারপরই এ ঘটনায় ঢাকার তরফে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কূটনৈতিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছে।
টাঙাইলে কোন গ্রামে সুইটি আক্তারের বাড়ি? তা এখনও নিশ্চিৎ করে কেউ বলতে পারেনি। বাংলাদেশের সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, সুইটির আগে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাঁর স্বামী মেয়ের স্বামী আরেকটি বিয়ে করায় তাঁর বাপের বাড়ির লোকেরা তাঁকে বাড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। এরপর আর তিনি বাপের বাড়িতে থাকতে রাজি হননি। সুইটি বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। তাঁকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়। প্রথম দিকে সুইটির সঙ্গে তাঁর বাপেরবাড়ির লোকেদের যোগাযোগ থাকলেও গত এক বছর ধরে তা ক্ষীণ হয়ে পড়েছিল। এরপরই সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার খবর সামনে আসে।
