বণিক সমিতির নির্বাচন ঘিরে সরগরম আক্কেলপুর কলেজ বাজার
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর কলেজ বাজার বণিক সমিতির ত্রিবার্ষিক নির্বাচন ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো বাজার। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় মুখর থাকছে বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলি। দোকানের সামনে, মোড়ে ও প্রধান সড়কের পাশে শোভা পাচ্ছে প্রার্থীদের পোস্টার-ফেস্টুন। পছন্দের প্রার্থীকে জয়ী করতে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা।
কোথাও আনারস, কোথাও ছাতা, হাতি, আম কিংবা হরিণ প্রতীক। আবার কেউ প্রতীকসংবলিত টুপি পরে, কেউ হাতে মাইক নিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা। ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি নিজেদের পরিকল্পনা তুলে ধরে ভোট চাইছেন প্রার্থীরা। নির্বাচন ঘিরে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
আগামীকাল রোববার অনুষ্ঠিত হবে আক্কেলপুর কলেজ বাজার বণিক সমিতির এই নির্বাচন। এতে মোট ভোটার ৮৯৬ জন। সভাপতি, সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষসহ বিভিন্ন পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে শেষ মুহূর্তের প্রচার-প্রচারণায় আরও জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ।
সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. নূরনবী খন্দকার নয়ন, তাঁর প্রতীক আনারস এবং কাজী শফি উদ্দিন, তাঁর প্রতীক ছাতা।
সহসভাপতি পদে লড়ছেন মো. আতাউয়ার হোসেন, তাঁর প্রতীক দোয়েলপাখি এবং মো. জাকির হোসেন, তাঁর প্রতীক মোমবাতি।
সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মো. মিজানুর রহমান হাবু, তাঁর প্রতীক হাতি; মো. নূরনবী আরিফ, তাঁর প্রতীক আম এবং মো. মোরশেদুল ইসলাম সৈকত, তাঁর প্রতীক হরিণ।
কোষাধ্যক্ষ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন রিফাতুল হাসান রিংকু, তাঁর প্রতীক শাপলা; রেজাউল ইসলাম, তাঁর প্রতীক গরুর গাড়ি এবং শামীম হোসেন, তাঁর প্রতীক রিকশা।
নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রচার-প্রচারণার ব্যস্ততাও। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কয়েকজন প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একজন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় প্রায় দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশি হওয়ায় প্রচারণার ব্যয়ও বাড়ছে বলে জানান তাঁরা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্বাচনের মাধ্যমে তাঁরা এমন নেতৃত্ব চান, যারা বাজারের ব্যবসায়ীদের সমস্যা সমাধান, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। তাই শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের যোগ্যতা, গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও ভোটারদের মধ্যে চলছে আলোচনা।
নির্বাচনের আহ্বায়ক মো. আলমগীর চৌধুরী বাদশা বলেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ব্যবসায়ীরা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়ে তাঁদের পছন্দের নেতৃত্ব নির্বাচিত করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে হার-জিত মেনে নিয়ে সবাইকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
