সরু কোমর, ছিপছিপে গড়ন আর নিখুঁত আওয়ারগ্লাস ফিগার। এমন শরীরী গড়নের আকাঙ্ক্ষায় সোশাল মিডিয়ার হাত ধরে জনপ্রিয় হচ্ছে এক অভিনব কসমেটিক সার্জারি, ‘রিব রিমডেলিং’। কোমরের মাপ কমাতে পাঁজরের নীচের দিকের হাড়ের গঠন বা অবস্থান বদলে দেওয়া হয় এই পদ্ধতিতে।
সোশাল মিডিয়ায় এই অস্ত্রোপচারের পর শরীরের আমূল পরিবর্তনের ছবি দেখে আকৃষ্ট হচ্ছেন অনেকে। কিন্তু সৌন্দর্যের জন্য শরীরের গুরুত্বপূর্ণ হাড়ের গঠন বদলানো কি আদৌ নিরাপদ? চিকিৎসকদের উদ্বেগ, এই পদ্ধতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে এখনও পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
কী এই রিব রিমডেলিং?
রিব রিমডেলিং হল কোমর সরু দেখানোর একটি কসমেটিক অস্ত্রোপচার। সাধারণত পাঁজরের নীচের দিকে থাকা ১১ ও ১২ নম্বর জোড়া হাড়ের অবস্থান বা কোণ বদলানো হয়। এই হাড়গুলি ‘ফ্লোটিং রিবস’ নামে পরিচিত, কারণ এগুলি সরাসরি বুকের মাঝের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত নয়।
প্রচলিত রিব রিমুভাল পদ্ধতিতে পাঁজরের হাড়ের অংশ অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হয়। কিন্তু রিব রিমডেলিংয়ে হাড় সম্পূর্ণ বাদ না দিয়ে তার গঠন বদলে নির্দিষ্ট অবস্থানে আনার চেষ্টা করা হয়। পদ্ধতিভেদে হাড় ভেঙে নতুন অবস্থানে স্থির রাখার কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে। তবে ফলাফল নির্ভর করে রোগীর শারীরিক গঠন, অস্ত্রোপচারের পদ্ধতি এবং সার্জনের অভিজ্ঞতার উপর।
কী কী ঝুঁকি রয়েছে?
বছরখানেক আগে এক সিস্টেম্যাটিক রিভিউতে কসমেটিক কারণে পাঁজরের অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা, নিউমোথোরাক্স এবং ক্ষতজনিত জটিলতার কথা উঠে আছে। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিয়েও গবেষণা সীমিত।
নিউমোথোরাক্স: অস্ত্রোপচারের সময় ফুসফুসে আঘাত লাগলে তার চারপাশে হাওয়া জমে ফুসফুস চুপসে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। এমনকী মৃত্যু ঝুঁকিও রয়েছে।
দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা: আশপাশের স্নায়ু বা টিস্যুতে আঘাত লাগলে অস্ত্রোপচারের পরেও ব্যথা থেকে যেতে পারে।
হাড় জোড়া লাগার সমস্যা: হাড় ঠিকমতো না জুড়লে অস্বস্তি হতে পারে, পাশাপাশি কোমরের গঠনও অসমান হয়ে যেতে পারে।
সংক্রমণ ও ক্ষত: অন্যান্য অস্ত্রোপচারের মতো এখানেও সংক্রমণ, ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া এবং দাগ থেকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

শ্বাসপ্রশ্বাসে প্রভাব পড়ে
পাঁজরের হাড় বুকের ভিতরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে সুরক্ষা দেয়। শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের খাঁচার প্রসারণ ও সংকোচনেও এর ভূমিকা রয়েছে। তাই পাঁজরের গঠন বদলানোর সময় আশপাশের টিস্যুতে আঘাত লাগলে জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষত, নিউমোথোরাক্স শ্বাসপ্রশ্বাসে গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই অস্ত্রোপচারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে পর্যাপ্ত গবেষণা না থাকায় ভবিষ্যতে শ্বাসপ্রশ্বাসের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
সোশাল মিডিয়ায় আকর্ষণীয় ফলাফল দেখেই এমন অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। সৌন্দর্যের জন্য শরীরের গুরুত্বপূর্ণ হাড়ের গঠন বদলানোর আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।
