যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন জ্যাক ওয়েইস। বরফ তৈরির প্রক্রিয়া নিয়ে তার গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়েছে নোবেল কমিটি। অথচ ২০২৪ সালে ডিগ্রি অর্জনের পর ২ হাজার ৩০০টির বেশি চাকরির আবেদন করেও স্থায়ী চাকরি পাননি ৩০ বছর বয়সী এই গবেষক।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনটি দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি।
ওয়েইস যুক্তরাষ্ট্রের সল্টলেক সিটির বাসিন্দা। প্রিন্সটন থেকে পিএইচডি করার আগে তিনি রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির পেছনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া ও অণুর পারস্পরিক ক্রিয়া। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তার কাজের উল্লেখ করে নোবেল কমিটি।
পিএইচডি শেষ করার পর তিনি ওষুধ কোম্পানিতে গবেষণার চাকরি এবং জাতীয় গবেষণাগারগুলোর ফেলোশিপের জন্য আবেদন করেন। তবে অনেক আবেদনেই কোনো উত্তর পাননি, আবার কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। পরে তিনি নিজের গবেষণার ক্ষেত্রের বাইরেও চাকরি খুঁজতে শুরু করেন। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি হিমায়িত কাঁকড়ার কেক তৈরি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুতের কাজের জন্যও আবেদন করেন।
প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তেমন সুযোগ পাননি তিনি।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রশিক্ষণ দেয় এমন একটি প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক কাজ পান ওয়েইস। সেখানে তার কাজ ছিল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে এআইকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য প্রশ্ন তৈরি করা, এআইয়ের উত্তর মূল্যায়ন করা এবং সেগুলো সংশোধন করা। ঘণ্টায় ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেলেও কাজের পরিমাণ নিয়মিত ছিল না। কোনো সপ্তাহে চার ঘণ্টা, আবার কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেতেন তিনি। পরে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিয়মিত আয়ের পথও বন্ধ হয়ে যায়।
চাকরি না পেয়ে ওয়েইস এখন পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবছেন। নভেম্বরে আইন বিষয়ে পড়ার ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন তিনি। পাশাপাশি ব্যবসা শুরুরও চেষ্টা করছেন। এআই ব্যবহার করে ক্ষতিকর আগাছা ধ্বংসের জন্য এলইডি লেজারযুক্ত একটি ড্রোনের নকশাও তৈরি করেছেন তিনি।
ওয়েইসের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে উচ্চশিক্ষিত চাকরিপ্রার্থীদের চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে এনেছে। দেশটিতে বেকারত্বের হার গত তিন বছরে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকে কাজ খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন।
চাকরিপ্রার্থীদের একটি জরিপে অংশ নেয়া প্রায় ২১৮ জনের মধ্যে ৬১ শতাংশ জানিয়েছেন, নিয়োগদাতারা চাকরির আবেদনের উত্তর না দেয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। অন্যরা তীব্র প্রতিযোগিতা, বয়সের কারণে বৈষম্য এবং ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় এআইয়ের ব্যবহার চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে নিয়োগদাতাদের সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
