ধারণা করা হয়েছিল, হায়দরাবাদের পিচ কিছুটা ব্যতিক্রম হবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। কিন্তু ম্যাচ যত এগিয়েছে, ততই পরিষ্কার হয়েছেÑ চেনা সেই ব্যাটিংবান্ধব উইকেটই অপেক্ষা করছিল দুই দলের জন্য। গতকাল বুধবার উইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপের অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংসে ভারত হেরেছে ২৪ রানে। ফলে সিরিজ এখন ২-২ সমতায়। সিরিজে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।
ভারতের বোলারদের ওপর উইকেটের আচরণ বুঝে শুরু থেকেই চড়াও হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জুয়েল অ্যান্ড্রু। আর্শদিপ সিংয়ের ১ ওভারে ২টি চার ও ১টি বিশাল ছক্কা হাঁকান তিনি। মায়াঙ্ক যাদবের গতি ও বাউন্সও কাজে আসেনি; তার ওভার থেকে অতিরিক্ত ১১ রান পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলীয় ৫২ রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন জুয়েল। অক্ষর প্যাটেল তাকে বিদায় করেন ব্যক্তিগত ২১ রানে। এরপর শাই হোপের সঙ্গে ৫৮ রানের জুটি গড়েন শিমরন হেটমায়ার। ১২ বলে ৩৩ রান করে প্রিন্স যাদব নিজের বলেই ক্যাচ নিয়ে বিদায় করেন হেটমায়ারকে। ফলে ১১০ রানে পতন হয় দ্বিতীয় উইকেটের।
এরপর হোপ আবারও ৪৬ রানের জুটি গড়েন রভম্যান পাওয়েলের সঙ্গে। ১৭ বলে ২৪ রান করে অর্শদিপের বলে উইকেটের পেছনে সঞ্জু স্যামসনকে ক্যাচ দিয়ে আউট হন পাওয়েল। ১৫৬ রানে ৩ উইকেট হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে এরপর আর কোনো উইকেট না হারিয়েই অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটি গড়েন হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ড। এই জুটিতে সেঞ্চুরির দেখা পান অধিনায়ক হোপ। ৫০ বলে ৯ ছক্কা ও ৪টি চারে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। ২৬ বলে ৪৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন রাদারফোর্ড। শেষ পর্যন্ত ২৪৭ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় উইন্ডিজ।
জবাব দিতে নেমে কিমো পলের ৫ উইকেটে ২২৩ রানে অলআউট হয় স্বাগতিক ভারত। অভিষেক শর্মার ব্যাটে আসে সর্বোচ্চ ৫৬ রান। ৪৩ ও ৪১ রান করেন অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও নিতিশ কুমার রেড্ডি। অতিরিক্ত ২৪ রান আসে ভারতের ইনিংসে। সঞ্জু স্যামসন, ইশান কিষান, নিতিশ কুমার, অক্ষর প্যাটেল ও প্রিন্স যাদবকে ফেরান কিমো পল। ৪১ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। ২টি উইকেট পেয়েছেন গুদাকেশ মোতি। ১টি করে রোমারিও শেফার্ড ও শামার স্প্রিঙ্গার। সিরিজ নির্ধারণী পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি আগামী ১৭ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে।