ঘরের মাঠে চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণ পারফরম্যান্সে টানা দুই ম্যাচ জিতেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কার পর তারা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে কার্যত ফাইনালে এক পা দিয়ে রেখেছে। যেখানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ২১ বছর বয়সী পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস। মাত্র পাঁচ ওয়ানডেতেই তার নামের পাশে দুুটি ফাইফার জ্বলজ্বল করছে।
কেবল তাই নয়, গতকাল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই মিনহাস দারুণ ভূমিকা রেখেছেন। পাকিস্তান যখন ১৩৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বড় সংগ্রহ না পাওয়ার শঙ্কায়, তখন ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৮ বলে করেন ৫৯ রান। হাসান নেওয়াজের সঙ্গে তার ৭৮ রানের জুটিই পাকিস্তানকে তিনশ পেরোনো সংগ্রহ এনে দেয়। এরপর বল হাতে নিজের দলকে উপযুক্ত ব্রেকথ্রু দিয়ে ভেঙেছেন ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপ।
এর মধ্য দিয়ে আরাফাত মিনহাস মাত্র তৃতীয় পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে একই ওয়ানডেতে হাফসেঞ্চুরি ও ফাইফারের রেকর্ড গড়লেন। তার আগে আব্দুল রাজ্জাক একবার এবং শহীদ আফ্রিদি তিনবার গড়েছিলেন ওই কীর্তি। অবশ্য আরাফাত আন্তর্জাতিক ওয়ানডের অভিষেক ম্যাচেও ফাইফার নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। গত মে মাসে হওয়া সেই ম্যাচে ১০ ওভারে স্রেফ ৩২ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নিয়ে বাঁ-হাতি এই স্পিনার ম্যাচসেরা হয়েছিলেন।
২০০৫ সালে মুলতানে জন্ম নেওয়া এই তরুণ অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যাত্রাটা করেন টি-টোয়েন্টি দিয়ে। ২০২৩ এশিয়ান গেমস দিয়ে আরাফাত মিনহাসের শুরু। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ এবং শাহিন্স (পাকিস্তান ‘এ’ দল) কর্মসূচির ধাপ পেরিয়ে আসার পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ পিএসএলে মুলতান সুলতান্সের হয়ে ভালো পারফর্ম করেছেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতেই যে তিনি এতটা চমক দেখাতে পারবেন, তা খুব কম মানুষই ভেবেছিল।
সেই বিস্ময় লুকাননি পাকিস্তানের প্রধান কোচ মাইক হেসন, ‘আমরা কল্পনাও করিনি যে সে এত দুর্দান্তভাবে শুরু করবে। ব্যাট, বল এবং ফিল্ডিং– সব ক্ষেত্রেই সে প্রমাণ করেছে যে সে পুরোপুরি প্রস্তুত।’ আর গতকাল ইংল্যান্ড ম্যাচের পর ওয়ানডে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি মিনহাসকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আরাফাত এবং পেসারদের ফর্ম আমাদের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত। আরাফাত খুব ভালো প্রতিভা এবং একজন উপযুক্ত অলরাউন্ডার। আশা করি ভবিষ্যতে আরও অনেক ম্যাচে সে আমাদের জন্য ভালো কিছু করবে।’
বাঁ-হাতি স্পিনে বোকা বানিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককেও বোল্ড করেছেন মিনহাস। ম্যাচ শেষে ব্রুকও তার প্রশংসায় কার্পণ্য করেননি, ‘ও আসলেই অনূর্ধ্ব-২১ বয়সী? আমি এটা জানতাম না। ও বেশ ভালো বোলার এবং খুব ভালো বল করেছে। অন্য সবার চেয়ে ও অনেক ভালো খেলেছে। আমরা সবাই ওর ভিডিও দেখেছি, তবে ওর বিপক্ষে খুব একটা খেলার সুযোগ হয়নি। আমার মনে হয়, ফিল্ডিংয়ের দিক থেকেও ওরা অসাধারণ ছিল।’
আরাফাত মিনহাসের ভাই সামির মিনহাসও পাকিস্তান ক্রিকেটে আলোচিত নাম। এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক না হলেও, সর্বশেষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ১৭১ রানের ইনিংসে ইতিহাস গড়েছিলেন। যুব ওয়ানডেতে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস খেলা এই ব্যাটার টুর্নামেন্টের সেরা রানসংগ্রাহকও ছিলেন। দুই ভাইয়ের ক্রিকেটের যাত্রাটা হয়েছে বাবা কাশিফ মিনহাসের হাত ধরে। এক সময় টেপ টেনিসে তার নামডাক ছিল বলে দাবি সামিরের।
এএইচএস
