যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হানা ক্যাটাগরি-২ হারিকেন আইসেয়াসের তাণ্ডবে অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে বসতবাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ায়। ঝড়ের আঘাতে ফ্লোরিডাসহ চারটি অঙ্গরাজ্যে ছয় লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। উপকূলে আছড়ে পড়ার পর ঝড়টি দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকি এখনো রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হানে হারিকেন আইসেয়াস। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন কেন্দ্র সতর্ক করে বলেছে, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া ও ক্যারোলাইনায় আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর আশঙ্কা রয়েছে।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা পাওয়ারআউটেজ ডট ইউএসের তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডা, অ্যালাবামা, জর্জিয়া ও মিসিসিপিতে ছয় লাখ ৭০ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন রয়েছেন। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ঝড় রেচেলের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলের ক্যালিফোর্নিয়ায় আরো সাত হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন।
ফ্লোরিডায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ১৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর রন ডেস্যান্টিস। দুর্যোগ মোকাবিলায় ফ্লোরিডা ও অ্যালাবামায় জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী মার্কওয়েইন মালিন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামগ্রিকভাবে ‘নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে।
ঝড়ের প্রভাবে মেক্সিকো উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল উৎপাদনের প্রায় ৬৯ শতাংশ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের ৫৭ শতাংশ বন্ধ রাখা হয়েছে। শেলের মতো বড় জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদন প্ল্যাটফর্ম থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিলেও রোববার আবার কর্মী পাঠানো ও উৎপাদন চালুর কাজ শুরু করেছে।
ঝড়ের কারণে তেল সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগ জরুরি মজুদ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার অনুমতি দিয়েছে। এই মজুদ কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ নামে পরিচিত।
এদিকে হারিকেনের আঘাতে ফ্লোরিডার উপকূলীয় শহর পেন্সাকোলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পেন্সাকোলা বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
সানা/আপ্র/১১/১০/২০২৬
