শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শুরু হয়েছে উৎসবের প্রস্তুতি। এ বছর শৈলকুপা পৌরসভার সাতটি পূজা মণ্ডপসহ পুরো উপজেলায় মোট ১২৮টি দুর্গামন্দিরে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা।
পূজাকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে প্রতিটি মন্দিরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সহ প্রায় ৫০০ নিরাপত্তাকর্মী বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয়দের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা জানান, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন কমিটি, শৈলকুপা পৌরসভার সাধারণ সম্পাদক ও নগরপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সভাপতি বিপ্লব রায় রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, শৈলকুপায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা রয়েছে। আমরা আশা করি, পুলিশ ও পূজা উদ্যাপন কমিটির সমন্বিত উদ্যোগে প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হবে এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে জানাতে হবে। পাশাপাশি সবাইকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার- এই চেতনা ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতায় শৈলকুপায় শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে উৎসবটি সবার জন্য আনন্দময় হয়ে উঠুক- এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
