চুলের আগা ফেটে যায় কেন, কীভাবে কমাবেন?
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
চুল লম্বা করতে চান, কিন্তু কিছুদিন পরই আগা ফেটে যাচ্ছে? রুক্ষ চুল, অতিরিক্ত তাপ, ঘন ঘন রাসায়নিক ব্যবহার কিংবা চুলের ভুল পরিচর্যার কারণে এমন হতে পারে। নিয়মিত যত্নে চুলের ক্ষতি কমানো সম্ভব, তবে একবার চুলের আগা ফেটে গেলে তা স্থায়ীভাবে জোড়া লাগানো যায় না।
চুলের যত্নে অনেকেই শ্যাম্পু, কন্ডিশনার ও তেল ব্যবহার করেন। তারপরও চুলের আগা ফেটে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন অনেকে। চুলের আগা ফেটে যাওয়াকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘স্প্লিট এন্ডস’। চুলের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভেতরের অংশ দুর্বল হয়ে যায়। ফলে চুলের ডগা দুই বা তার বেশি ভাগে বিভক্ত হতে পারে।
চুলের আগা ফাটে কেন?
১. অতিরিক্ত তাপের ব্যবহার
চুল সোজা করা, কোঁকড়া করা কিংবা শুকানোর জন্য নিয়মিত উচ্চ তাপমাত্রার যন্ত্র ব্যবহার করলে চুলের ক্ষতি হতে পারে। এতে চুল শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে আগা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
২. ভেজা চুলে জোরে আঁচড়ানো
ভেজা চুল তুলনামূলক নাজুক থাকে। এ সময় জোরে চিরুনি চালানো, টান দিয়ে জট ছাড়ানো কিংবা তোয়ালে দিয়ে ঘষে ঘষে মোছার কারণে চুল ভেঙে যেতে পারে।
৩. বারবার রং ও রাসায়নিক ব্যবহার
চুলে ঘন ঘন রং করা, ব্লিচ করা কিংবা রাসায়নিক উপায়ে চুল সোজা করার ফলে চুলের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে একাধিক রাসায়নিক প্রক্রিয়া অল্প সময়ের মধ্যে করলে ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ে।
৪. চুলের সঙ্গে রুক্ষ আচরণ
খুব শক্ত করে চুল বাঁধা, চুলে টান পড়ে এমন স্টাইল করা এবং জট ছাড়াতে জোর প্রয়োগ করলেও চুল দুর্বল হতে পারে। চুলের আগা সাধারণত পুরোনো হওয়ায় এই অংশে ক্ষতির লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
৫. শুষ্কতা ও ঘর্ষণ
শুষ্ক চুলে ঘর্ষণ বেশি হলে চুলের বাইরের স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তোয়ালে, বালিশের কভার কিংবা পোশাকের সঙ্গে বারবার ঘর্ষণও চুলের ক্ষতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
চুলের আগা ফাটা কমাবেন যেভাবে
১. নিয়মিত আগা ছাঁটুন
একবার চুলের আগা ফেটে গেলে তেল বা কন্ডিশনার দিয়ে সেটি স্থায়ীভাবে জোড়া লাগানো যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ছেঁটে ফেলাই কার্যকর উপায়। চুল কত দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কতটা লম্বা রাখতে চান, তার ওপর নির্ভর করে আগা ছাঁটার সময় ঠিক করতে পারেন।
২. প্রতিবার শ্যাম্পুর পর কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
কন্ডিশনার চুলের জট কমাতে, আঁচড়ানোর সময় ঘর্ষণ কমাতে এবং চুলকে সাময়িকভাবে মসৃণ রাখতে সাহায্য করে। চুলের মাঝামাঝি অংশ থেকে আগা পর্যন্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করা যেতে পারে।
৩. তাপ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন
প্রয়োজন ছাড়া স্ট্রেইটনার বা কার্লার ব্যবহার না করাই ভালো। হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে কম তাপমাত্রা বেছে নিন। হিট প্রটেকট্যান্ট পণ্য ব্যবহার করলেও তাপের ক্ষতি পুরোপুরি বন্ধ হয় না।
৪. আলতোভাবে চুল শুকান ও আঁচড়ান
চুল ধোয়ার পর নরম তোয়ালে দিয়ে আলতো করে পানি শুষে নিন। জট ছাড়ানোর সময় মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। চুলের আগা থেকে ধীরে ধীরে জট ছাড়িয়ে তারপর ওপরের দিকে এগোলে টান কম পড়ে।
৫. চুলে রাসায়নিক ব্যবহারের বিরতি দিন
চুল রং করা বা রাসায়নিকভাবে সোজা করার পর চুল শুষ্ক ও দুর্বল হয়ে গেলে নতুন করে একই ধরনের প্রক্রিয়া করার আগে বিরতি দিন। চুলের অবস্থা বুঝে প্রয়োজন হলে পেশাদার হেয়ার কেয়ার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
৬. খাবারে পুষ্টির ভারসাম্য রাখুন
চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও গঠনের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্কসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন। ডিম, মাছ, ডাল, বাদাম, শাকসবজি ও ফল সুষম খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে শুধু চুলের আগা ফাটছে বলে ভিটামিনের ঘাটতি আছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
তেল লাগালেই কি চুলের আগা জোড়া লাগে?
চুলে তেল ব্যবহার করলে কিছু ক্ষেত্রে ঘর্ষণ ও শুষ্কতা কমাতে সাহায্য হতে পারে। কন্ডিশনার বা উপযুক্ত হেয়ার সিরামও চুলকে সাময়িকভাবে মসৃণ দেখাতে পারে। তবে এসব পণ্য ফেটে যাওয়া চুলের আগা স্থায়ীভাবে মেরামত করতে পারে না। চুলের যত্নে তাই শুধু তেলের ওপর নির্ভর না করে চুলের ক্ষতি করে এমন অভ্যাস কমানো জরুরি।
কখন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন?
চুল অতিরিক্ত ভেঙে গেলে, হঠাৎ অনেক চুল পড়তে শুরু করলে কিংবা মাথার ত্বকে চুলকানি, লালচে ভাব বা ক্ষত দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। চুল ভাঙা ও চুলের গোড়া থেকে চুল পড়ে যাওয়া এক বিষয় নয়, কারণও আলাদা হতে পারে। সব মিলিয়ে, চুলের আগা ফেটে যাওয়া পুরোপুরি এড়ানো সব সময় সম্ভব নয়। তবে অতিরিক্ত তাপ ও রাসায়নিক ব্যবহার কমানো, নিয়মিত কন্ডিশনার ব্যবহার এবং আলতোভাবে চুলের পরিচর্যা করলে ক্ষতি অনেকটাই কমানো যায়।
সুস্থ চুলের জন্য দামি প্রসাধনীর চেয়ে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন, সঠিক অভ্যাস এবং ক্ষতিগ্রস্ত চুলের প্রতি বাড়তি মনোযোগ।
তথ্যসূত্র: আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি (AAD) চুলের যত্ন ও চুলের ক্ষতি প্রতিরোধবিষয়ক নির্দেশনা।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
