পদ্মচাষে ব্যাপক লাভ।ছবি: Facebook
Published on
:
2 min read
পালাবদলের বাংলায় পদ্ম বেচে লক্ষ্মীলাভ। রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন ঘটেছে। জোড়াফুল থেকে ক্ষমতায় পদ্মফুল। আর সেই পদ্মের সরকারের জমানায় প্রথম দুর্গাপুজোয় পদ্মচাষিদের লক্ষ্মীলাভ। দারুণ খুশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় ফুলচাষিরা।
জেলার কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, মেচেদা, তমলুক-সহ বেশ কিছু এলাকায় অন্য ফুল চাষের সঙ্গে পদ্ম চাষও হয়। আগে খালে পদ্ম চাষ হলেও গত বছর থেকে জমিতে পদ্মের চাষ শুরু হয়েছে। এ বছর পদ্মের ফলন ভালো বলে জানাচ্ছেন পদ্মচাষিরা। আর দুর্গাপুজোয় ১০৮টি পদ্ম লাগে। পদ্ম যেমন ফুটেছে, তেমনই পদ্মের চাহিদাও ছিল।
এক নজরে
পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, মেচেদা ও তমলুকে আগে খালে চাষ হলেও এখন জমিতেও বাণিজ্যিক ভাবে পদ্ম চাষ হচ্ছে।
এ বছর দুর্গাপুজোয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা এবং গোটা রাজ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার পদ্ম বিক্রি হয়েছে।
প্রতিটি পদ্ম ১০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়েছে এবং পুজোয় ১০৮টি পদ্মের বিপুল চাহিদা সফল ভাবে পূরণ করেছেন চাষিরা।
বিগত বছরগুলিতে পদ্ম নষ্ট হয়ে লোকসানের মুখে পড়লেও এ বছর ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় বেজায় খুশি স্থানীয় চাষিরা।
ফুলচাষি সমিতির পক্ষ থেকে ফুল মজুত রাখার জন্য রাজ্যে বিশেষ কোল্ড স্টোরেজ চালুর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
এ বছর জেলায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার পদ্ম বিক্রি হয়েছে এবং রাজ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার পদ্ম বিক্রি হয়েছে। এক একটি পদ্ম ১০ টাকা দামেও বিক্রি হয়েছে। জেলার পদ্মচাষি মোহন মাইতি, কাজল সেন, মদন মাইতিদের কথায়, ‘এ বছর পদ্মের ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হওয়ায় উপার্জনও ভালো হয়েছে৷ গত কয়েক বছরে অনেক ফুল নষ্ট হয়েছিল৷ বিক্রি হয়নি, তাই সে ভাবে উপার্জন হয়নি। তবে এ বার ছবিটা আলাদা। সামনে জগদ্ধাত্রী পুজো। পদ্মের চাহিদা থাকে। আশা করি চাহিদা পূরণ করতে পারব।’
অষ্টমীর পুজোয় ১০৮টি পদ্ম লাগেই। সারা বাংলা জুড়ে এত বারোয়ারি পুজো, বাড়ির পুজো, মন্দিরে পুজো হয়। ফলে, পদ্মের চাহিদা থাকাটাই স্বাভাবিক। সারা বাংলা ফুলচাষি ও ফুলব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণচন্দ্র নায়েক বলেন, ‘এ বছর পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাশাপাশি রাজ্যে পদ্মের ফলন ভালো। এ বার পুজোর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফুলের চাহিদা থাকায় বিক্রি ভালো হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী জেলায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা এবং রাজ্যে প্রায় ১০ কোটি টাকার পদ্ম বিক্রি হয়েছে। রাজ্যের নতুন সরকার এ বার ফুল মজুত রাখার জন্য বিশেষ কোল্ড স্টোরেজ চালু করলে চাষিরা অনেকটাই উপকৃত হবে।’