প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে চীনের প্রভাব কমানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে বাংলাদেশের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস চীন।
বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে আগামী পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন (৬৩৫ কোটি) ডলার বিনিয়োগের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে জাপান। চলতি মাসেই এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হতে পারে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে জাপানের সবচেয়ে প্রভাবশালী অর্থনৈতিক সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া। তাদের ওই প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ অক্টোবর জাপান সফরে যাচ্ছেন। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এ বৈঠক শেষে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে বিনিয়োগের এ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ থাকবে বলে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশে চীনের প্রভাব কমানোই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে বাংলাদেশের আমদানির সবচেয়ে বড় উৎস চীন। তবে ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে বাংলাদেশ।
জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে উল্লেখ করে নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত বিনিয়োগের বড় অংশ যেতে পারে গাড়ি ও অন্যান্য উৎপাদন শিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণে। এর মধ্যে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে (বিএসইজেড) বিনিয়োগের বিষয়টিও রয়েছে। জাপানের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত।
বাংলাদেশ ও জাপান চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর করেছে। তুলনামূলক কম শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন শিল্পের জন্য বাংলাদেশের অনুকূল পরিবেশ অন্যতম আকর্ষণ বলে মনে করছে জাপান।
নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশ বিশ্বের অষ্টম সর্বাধিক জনসংখ্যার দেশ। বিপুলসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী থাকায় বড় ভোক্তা বাজার হিসেবেও এর গুরুত্ব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশকে উন্নয়ন সহায়তা দিয়ে আসছে জাপান। এবার উন্নয়ন সহায়তার পাশাপাশি সরাসরি বেসরকারি বিনিয়োগে আরো সক্রিয় হওয়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে দেশটি।
