মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে সদ্য ইস্তফা দেওয়া ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন জানিয়েছেন, তিনি একটি সুসংগঠিত ও ভয়াবহ চক্রান্তের হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছেন।
সম্প্রতি গেণ্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানোর কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলে তিনি পদত্যাগ করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) পদত্যাগের সময় বিএনপি ও সরকারের সম্মান রক্ষার কথা বললেও, পরবর্তীতে ফেইসবুক পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ওই নির্দেশকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার জন্য 'এযাবৎকালের সেরা পরামর্শ' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) নিজের ফেইসবুক পোস্টে ইশরাক বলেন, প্রথমে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পদত্যাগের নির্দেশকে ‘শাস্তি’ মনে হলেও পরে তিনি বুঝতে পেরেছেন, ওই সিদ্ধান্তের পেছনে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষার বিষয়টি ছিল।
তিনি লিখেছেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছিলেন, যা আমি একবাক্যে মেনে নিয়েছিলাম।”
নিজের ফেইসবুক পেইজে গেণ্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানের একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেন ইশরাক হোসেন। ঐ ভিডিওতে গেণ্ডারিয়ার রেললাইনের পাশের একটি এলাকায় তাকে অস্ত্র হাতে অভিযানে অংশ নিতে দেখা যায়। তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তির হাতেও অস্ত্র দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে কয়েকজনকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
ওই ঘটনার পর প্রশ্ন ওঠে—একজন জনপ্রতিনিধি এভাবে অস্ত্র হাতে অভিযান পরিচালনা করতে পারেন কি না।
অবিভক্ত ঢাকা সিটির শেষ মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক লিখেছেন, “আমি একটি কঠিন কাজ (মাদকবিরোধী) শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।”
পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে ‘একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা’ চালিয়ে চরিত্রহনন এবং জনগণের সমালোচনার মুখে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষী সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি করে তাকে ‘একঘরে’ করার চেষ্টা হতে পারত।
আর এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হলে রাজনৈতিক জীবনের ‘ইতি টানতে হতো’ বলেও পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ইশরাক।
তিনি বলেন, “একই চক্র অতীতে তাঁর (তারেক রহমান) বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।”
বিএনপির কেউ সুযোগসন্ধানী হয়ে কথিত ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইশরাক।
তিনি বলেন, “আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।”
নিজেকে বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রতি ‘অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী’ বর্ণনা করে ইশরাক লিখেছেন, “আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।”
নিজের বক্তব্যকে কেবল সোশাল মিডিয়ায় দেওয়া একটি ‘স্ট্যাটাস’ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়ে ইশরাক লিখেছেন, “আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তাঁর (প্রধানমন্ত্রী) কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি।”
