নয়াদিল্লি, ১৫ অক্টোবর: সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ও ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের মিছিল এবং বিক্ষোভ ঘিরে কড়া পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের। আজ বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, কেউ বিচারব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে পারে না। নির্বাচন কমিশনের ইসিআই কাজকর্ম এবং এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করে আদালত। রাহুল গান্ধী সহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতার দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ পাঠিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নোটিশ জারি করার অর্থ রাজনৈতিক নেতাদের আচরণকে সমর্থন করা নয়।
প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, পরবর্তী শুনানিতে রাহুল গান্ধীর আচরণ সম্পর্কে আদালত জানতে চাইবে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ সামনে আসে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এবং আইনজীবী গৌরব ভাটিয়া সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে রাজনৈতিক মিছিল ও বিক্ষোভের প্রসঙ্গ তোলার পর।
গৌরব ভাটিয়া জানান, সুপ্রিম কোর্টের মতো প্রতিষ্ঠানের চত্বরে এমন ঘটনা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অভিযোগ জানান, এই মিছিলের মাধ্যমে আদালতের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এর জবাবে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালতকে প্রভাবিত করার এই ধরনের প্রচেষ্টা অত্যন্ত দুর্বল। আদালত আরও জানায় বাইরে কী ঘটছে বা কী মন্তব্য করা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বিচারপতিরা অবগত। তাঁরা কোনো বিচ্ছিন্ন জগতে বসে নেই। রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব সহ অন্য নেতাদের মিছিলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পৃথক আবেদনের ভিত্তিতেও নোটিশ জারি করেছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভের সময় সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার ১২ অক্টোবর দিল্লির বারাখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। এসআইআর প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন ইন্ডিয়া জোটের একাধিক নেতা। মিছিলের জেরে সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে বিপুল জমায়েত হয়। এর আগে এসআইআর এবং নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করার জন্য রাহুল গান্ধী প্রধান বিচারপতির কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। কিন্তু বিষয়গুলি ইতিমধ্যেই আদালতের বিচারাধীন থাকায় সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন প্রধান বিচারপতি। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সরকারের কাজে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত প্রতিকার চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে স্পষ্ট করেছিলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া আবেদনে রাহুল গান্ধী ছাড়াও রয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ,তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুদীপ রায়, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, আরজেডি নেতা তেজস্বী প্রসাদ যাদব, এনসিপির সুপ্রিয়া সুলে, শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, সিপিআই নেতা ডি রাজা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার মহুয়া মাঝি, সিপিএম নেতা এম এ বেবি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের ই টি মহম্মদ বশির। আবেদনকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত নথি আদালতে পেশ করা, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তগুলির সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখা, দায়ী আধিকারিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, আবেদনকারীদের অভিযোগের প্রতিকার এবং একটি স্বাধীন কমিটির মাধ্যমে গোটা প্রক্রিয়ার অডিট করানো। সবমিলিয়ে এখন নজর পরবর্তী শুনানির দিকে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে মামলার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে রাজনৈতিক মিছিল ও বিক্ষোভের বিষয়টিও আগামী দিনে আদালতের পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
