মোঃ বুলবুল ইসলাম, খানসামা (দিনাজপুর):
"দিনাজপুরের খানসামায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে রোপা আমন ধানখেতে আগাছানাশক বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ উঠেছে চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে অভিযোগকারীর স্ত্রী ও ভাইকে গালিগালাজ, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) উপজেলার ৪ নং খামারপাড়া ইউনিয়নের কায়েমপুর মাঝাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মো. রবিউল ইসলাম খানসামা থানায় এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিউল ইসলাম সংশ্লিষ্ট জমিটি নিজের ক্রয় করা ও ভোগদখলীয় সম্পত্তি বলে দাবি করেছেন। জমিটি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে দিনাজপুরের আদালতে একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
অভিযোগে রবিউল ইসলাম উল্লেখ করেন, বুধবার সকাল ১০টার দিকে আদালতে মামলার হাজিরা দিতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। পরে বাড়িতে ফিরে স্থানীয়দের মাধ্যমে ধানখেতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর জমিতে গিয়ে ধানগাছের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে পান।
তাঁর অভিযোগ, এ সময় উপজেলার জোয়ার (গোলাম হাজীপাড়া) এলাকার মো. আবদুস সালাম, কামাল, জামাল ও জুয়েল রানা তাঁর রোপা আমন ধানখেতে আগাছানাশক বিষ স্প্রে করেন। এতে ধানগাছ ঝলসে যায় এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রবিউল ইসলামের আরও অভিযোগ, ধানখেতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি জানতে পেরে তাঁর স্ত্রী মোছা. নাছরিন ও ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে এর কারণ জানতে চান। এতে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের গালিগালাজ ও মারধর করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত কামাল হোসেনের বক্তব্য জানতে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বাছেত সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
