আপ্লুত একদল। অন্যদলে আক্ষেপ। ষষ্ঠীর সকালেই কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে পোশাক বিতর্কে মান-অভিমানের পালা! সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করে নিজেদের পাওয়া উপহারের জন্য দিদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন একদল তৃণমূল কর্মী। সেই পোস্ট দেখেই ক্ষুদ্ধ দলের অন্য অংশ। সমাজ মাধ্যমে তাঁদের অনেকেই নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
দীর্ঘ বহুবছর ধরেই নিজের পরিচিত, ঘনিষ্ঠমহলে পুজোর উপহার দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও মন্ত্রিসভার সদস্য, আমলা থেকে শুরু করে দলের নেতা। এমনকী ঘনিষ্ঠবৃত্তের সাংবাদিকদেরও পুজোর উপহার হিসেবে গুডিব্যাগ পাঠাতেন। তবে এবার পুজোয় রাজনৈতিক পটভূমি বদলেছে। ঘনিষ্ঠবৃত্তের বহুজনই আজ মমতার নাগালের বাইরে। পুজোর উপহারের বহরও ছোট। তবে পোশাকের ছবি প্রকাশ পেতেই কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাজ্যে পালাবাদল, ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠবৃত্তে থাকা মুখগুলোও বদলে গিয়েছে। ছাত্র-যুবদের মধ্যে বেশ কিছু নতুন ছেলেপুলে রোজই হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে যান। তাঁদেরই অনেকে এবার ‘দিদি’র উপহার পেয়েছেন। ছেলেরা পেয়েছেন পাঞ্জাবি, মেয়েদের দেওয়া হয়েছে শাড়ি। ‘দিদি’র দেওয়া উপহার পেয়ে আপ্লুত হয়ে সোশাল মিডিয়ায় ছবি পোস্ট করেছেন অনেকে। উপাসনা চৌধুরী শাড়ির ছবি পোস্ট করে ফেসবুকে লিখেছেন, ‘দিদির দেওয়া পুজোর উপহার’। পাঞ্জাবির ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘দিদির আশীর্বাদ’।
যা ঘিরে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উপহার পাওয়া নেতাদের ছবি কোলাজ ফেসবুকে পোস্ট করে জনৈক মহম্মদ বাহাদুর নামে একজন সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আমাদের মতো কর্মীরা জেলাতে কষ্ট করছি। আর বাকি সবাই?” হুগলির এক নেত্রীর কথায়, “দিদি তো আমাকেও শাড়ি দিয়েছেন। তাই বলে সেটা ঢাক পিটিয়ে বলতে যাব?” উল্লেখযোগ্যভাবে এদিন দুপুরে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বার্তা দেন, উৎসবে থাকলেও সহকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতা যেন হারিয়ে না যায়।
