মহম্মদ সামি ও সুনীল গাভাস্কারEi Samay
Published on
:
2 min read
বয়স হলেই যে জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়ে যায় না সেটা ভুবনেশ্বর কুমারকে জাতীয় দলে ডেকে বার্তা দিয়েছেন টিম ইন্ডিয়ার নির্বাচকরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে সিরিজ়ের শেষ টি-টোয়েন্টিতে তাঁকে সুযোগ দিয়েছিল। যদিও তিনি নামার সুযোগ পাননি। কিন্তু ভুবির এই কামব্যাকে অনেক প্লেয়ার প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখতে পারেন। সেখানে যার নাম সবার আগে তিনি মহম্মদ সামি। ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে ধারাবাহিক পারফর্ম করা সত্ত্বেও সামি সুযোগ পাননি। তবে ভুবি ও সামিকে নিয়ে যখন জাতীয় দল নির্বাচনের বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই অন্য এক প্লেয়ারকে সামনে এনে নির্বাচকদের নাড়া দিলেন কিংবদন্তি ক্রিকেটার সুনীল গাভাস্কার। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (RCB) তারকা অলরাউন্ডার ক্রুণাল পান্ডিয়াকে জাতীয় দলে ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করলেন তিনি।
ক্রুনালের প্রশংসায় গাভাস্কার
সম্প্রচারকারী সংস্থা জিওস্টারের (JioStar) বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ খুলে ক্রুণালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। গাভাস্কার বলেন, ‘ক্রুণাল এককথায় অসাধারণ ক্রিকেটার, আমাদের দেশের অন্যতম বুদ্ধিমান ক্রিকেট মস্তিষ্কের অধিকারী ও। ওর বোলিং দেখলেই সেটা স্পষ্ট বোঝা যায়। ও হয়তো বিশাল বড় স্পিনার নয়, বল খুব বেশি টার্ন করায় না; কিন্তু অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ও লাইন এবং লেংথ বদল করে। ব্যাটারের মানসিকতা পড়ে ও নিখুঁতভাবে প্যাড লক্ষ্য করে বল রাখে। ওর হাত থেকে আচমকা বাউন্সার বেরোতেও দেখা যায়। অর্থাৎ ব্যাটারকে আউট করতে না পারলেও তাকে অন্তত কীভাবে বেঁধে রাখা যায়, সেই ছক ও সবসময় কষতে থাকে।’
এখানেই থামেননি সানি। তিনি আরও যোগ করেন, ‘শুধু বল হাতেই নয়, লোয়ার অর্ডারে ব্যাটার হিসেবে এবং ডিপে ফিল্ডার হিসেবে ও একাই দলকে নির্ভরতা দেয়। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি যদি বিশ্বকাপ জিততে চান, তবে যে সমস্ত ছেলেরা মাঠে ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে, কোনও দ্বিধা না রেখে তাঁদেরই দলে সুযোগ দেওয়া উচিত।’
২০২১-এর পর থেকে ব্রাত্য ক্রুনাল
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুলাই মাসে শ্রীলঙ্কা সফরের পর থেকে আর জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যায়নি ক্রুণাল পান্ডিয়াকে। তবে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে দূরে থাকলেও ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি ক্রিকেটে তিনি হয়ে উঠেছেন অপরিহার্য। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর টানা দুই মরশুমে (২০২৫ ও ২০২৬) IPL চ্যাম্পিয়ন হওয়ার যাত্রায় ক্রুণাল ছিলেন অন্যতম মুখ। সদ্য সমাপ্ত মরশুমে ১৬টি ম্যাচে ১৪টি উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি চাপের মুখে লোয়ার মিডল অর্ডারে নেমে ২২৬ রান করেছেন তিনি।
বয়স নিয়ে তৈরি হওয়া মানসিকতা বদলের পরামর্শ নির্বাচকদের দিয়েছেন গাভাস্কার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘কার বয়স কত হলো, দয়া করে সেদিকে তাকাবেন না। বয়স কখনই যোগ্যতা হতে পারে না। যদি একজন ক্রিকেটার আইপিএলের কঠিন মঞ্চে নিয়মিত খেলে, তার মানে সে শতভাগ ফিট। যদি সে ঘরোয়া ক্রিকেটে লাল বা সাদা বলে খেলে পারফর্ম করে, তবে সে ফিট এবং পারফর্মার। সেই পারফরম্যান্স দেখে সোজাসুজি তাকে ভারতীয় দলে নিয়ে আসা উচিত। এভাবেই জাতীয় দল গঠন করা প্রয়োজন।’ ভুবনেশ্বর কুমারের পর এবার গাভাস্কারের এই জোরালো সওয়াল কি ক্রুণাল পান্ডিয়ার জন্যও জাতীয় দলের দরজা আবার খুলে দেবে?
