যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ সিটির উন্নয়নে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সহযোগিতা কামনা করেছেন শহরটির লর্ড মেয়র কাউন্সিলর আব্দুল কাদির।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়রের পার্লারে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ সহযোগিতা চান। অত্যন্ত আনন্দঘন ও প্রীতিপূর্ণ পরিবেশে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের লর্ড মেয়রের পার্লারে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যবৃন্দ পৌঁছালে লর্ড মেয়র সবাইকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং আপ্যায়ন করান। পরে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাছিরের পরিচালনায় মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পোর্টসমাউথ সিটির ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রথম লর্ড মেয়র কাউন্সিলর আব্দুল কাদির।
প্রীতি বৈঠকের শুরুতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য দেন ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান।
মতবিনিময়ে অন্যান্যের মধ্যে অংশ নেন– টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক স্পিকার আহবাব হোসেন, ইউকে বাংলা গার্ডিয়ানের সহযোগী সম্পাদক অধ্যাপক সাজিদুর রহমান, ব্রিজবাংলা ২৪-এর সম্পাদক শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সিনিয়র সহসভাপতি ও ভাটির কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুন খান, সংগঠনের ট্রেজারার ও জগন্নাথপুর টাইমসের নিউজ এডিটর মির্জা আবুল কাসেম, অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি আসমা মতিন, অ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি ও চ্যানেল এনআরবি ইউকের সম্পাদক এ রহমান অলি, আইওন টিভির চিফ রিপোর্টার আব্দুল কাদির চৌধুরী মুরাদ এবং বাংলা সংলাপের রিপোর্টার, সংগঠনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারি ইমরান তালুকদার প্রমুখ।
বৈঠকে পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর ও লর্ড মেয়র আব্দুল কাদির বলেন, যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ সিটি কাউন্সিল হলো হ্যাম্পশায়ার কাউন্টিতে অবস্থিত পোর্টসমাউথ শহরের স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষ। ১৯২৬ সালে পোর্টসমাউথ শহরের মর্যাদা পাওয়ার পর থেকেই এই কাউন্সিল তার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। আনুষ্ঠানিক প্রধান হিসেবে একজন লর্ড মেয়র নিয়োজিত থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে পোর্টসমাউথ সিটির ১০০তম লর্ড মেয়র হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
লর্ড মেয়র আরও বলেন, ‘লর্ড মেয়র হিসেবে আমার প্রধান লক্ষ্য হলো শহরের মানুষের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মান বৃদ্ধি করা। পারস্পরিক সম্পর্ক, ঐক্য ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা সুন্দর ও শান্তিময় ব্রিটেনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা আধুনিক, শিল্প, সংস্কৃতি ও বাণিজ্যে অগ্রগামী এবং মাদকমুক্ত পোর্টসমাউথ সিটি গড়ে তুলতে চাই। এর জন্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সব সাংবাদিকের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করি।’
নিজের শেকড়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমি লর্ড মেয়র হয়েছি, তাই বলে আমার পা মাটি থেকে সরে যায়নি। আমি মাটির কাছাকাছি আছি এবং কমিউনিটির মানুষের পাশেই আছি, থাকব। আমি আমার শেকড় ভুলে যাইনি, আমার মাতৃভাষা বাংলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ভুলে যাইনি। শিগগিরই এই পোর্টসমাউথ সিটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও আমাদের সার্বিক সহযোগিতায় বাংলা স্কুল গড়ে তুলব। বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতিকে অন্য সংস্কৃতি ও ভাষাভাষী মানুষের কাছে সুপরিচিত করে তুলব। সব মিলিয়ে আমরা একটি শান্তিময়, উন্নত পোর্টসমাউথ এবং আলোকিত ব্রিটেন গড়ে তুলতে অনন্য ভূমিকা পালন করে যাব।’
মতবিনিময় শেষে লর্ড মেয়র ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের টাউন হল ট্যুরে নিয়ে যান এবং বিভিন্ন ইতিহাস-ঐতিহ্য ঘুরে দেখান। এ সময় তিনি ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রেসিডেন্ট ও সেক্রেটারির হাতে টাউন হলের মেয়রের ক্রেস্ট তুলে দেন এবং উপস্থিত সবাইকে একটি করে পিন উপহার দেন। পাশাপাশি ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির পক্ষ থেকেও লর্ড মেয়র আব্দুল কাদিরকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেওয়া হয়।
বিআরইউ
