Published on
:
2 min read
এই সময়: পুজোর মধ্যে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপের পথে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তর। আগামী বছর থেকে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত টানা ছুটি নেওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ করতে চলেছে সরকার। চিকিৎসক, নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সপ্তমী থেকে দশমী পর্যন্ত রস্টার ডিউটি চালুর নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। চোরবাগানের দুর্ঘটনার পরে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসক ও আধিকারিকদের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় শুক্রবার স্বাস্থ্য ভবনে মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ-সহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, পুজোর সময়ে হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক ও অন্য কর্মীদের উপস্থিতি খতিয়ে দেখতে গিয়েই একাংশের অনুপস্থিতির বিষয়টি নজরে আসে। পুজোর সময়ে পুরলিয়ার দেবেন মাহাতো মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে সাফাইয়ের দুরবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো সরাসরি ফোন করে বিষয়টি জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। তাতে অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে আরও জলঘোলা হয়। মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্য পরিষেবা জরুরি পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত। ফলে উৎসবের মরশুমেও দায়িত্ব পালনে কোনও শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।’ সরকারি কর্মীদের জনগণের করের টাকায় চলা পরিষেবার প্রতি দায়বদ্ধতার কথা মনে করিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘কাজ করানোর জন্যেও কি নির্দেশিকা জারি করতে হবে?’
এ বারও পুজোর চার দিনের জন্যে বিশেষ রস্টার চালু থাকলেও আগামী বছর থেকে চিকিৎসক ও নার্সদের ক্ষেত্রে তা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অন্য কর্মীদের জন্য আগের মতোই রস্টার ব্যবস্থা কার্যকর থাকবে। আগাম ছুটি নিয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার প্রবণতা বন্ধ করতেও কড়া অবস্থান নিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর। শুক্রবার যাঁদের কাজে থাকার কথা ছিল, তাঁদের ছুটি বাতিল করে কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
এ দিকে, চোরবাগানের দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ঘিরে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ওষুধ ও সিরিঞ্জের ঘাটতির অভিযোগ খারিজ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, অধ্যক্ষের প্রাথমিক রিপোর্টে পর্যাপ্ত সামগ্রী মজুত ছিল বলে জানা গিয়েছে। কেউ হয়তো হাতের কাছে প্রয়োজনীয় জিনিস না পেয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সে জিনিস মজুতই ছিল না। উল্লেখ্য, এই অভিযোগ তুলেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারদের একাংশ। গত শনিবার প্রথম সপ্তমীতে দুর্ঘটনার দিন ইমার্জেন্সি বিভাগের সামনে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখা চিকিৎসকদের ডিউটি সংক্রান্ত তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ বিষয়ে খোঁজ নিতে বললেও এখনও কোনও শাস্তিমূলক পদক্ষেপের নির্দেশ দেননি বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ তথা মেডিক্যাল সুপার এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি দেখছেন বলে জানান তিনি। অন-ডিউটি চিকিৎসকের বাইরে এসে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখা অনুচিত বলেও মন্তব্য করেন শারদ্বত। আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানো নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য, ‘রোগীর পরিজন যেখানে যেতে চেয়েছেন, সরকার সেখানে স্থানান্তরের ব্যবস্থাই করেছে।’
