‘প্রথম’ শব্দটা সম্ভবত হাসান মাহমুদের একটু বেশিই প্রিয় হয়ে উঠছে। গত দুই বছরে যে অনেকগুলো ‘প্রথমের’ই দেখা পেয়ে গেছেন তিনি! ভারত, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ায় ৫ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশী পেসার হয়েছেন। একাধিক দেশে ৫ উইকেট আছে, বাংলাদেশের এমন বোলারের তালিকাতেও সবার আগে উঠেছে তাঁর নাম।
কিন্তু গতকাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে আবুধাবি টেস্টে হাসান মাহমুদ এমন একটা জায়গায় ‘প্রথম’ হয়ে গেলেন, যে কীর্তি আলাদা হয়ে থাকবে অন্য সবকিছুর চেয়ে। টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন, সেটিও একজন পেসার হিসেবে। টেস্টে এর আগে হ্যাটট্রিক করেননি বাংলাদেশের কোনো পেসারই।
টেস্টে হ্যাটট্রিক আছে শুধু বাংলাদেশের দুই স্পিনার অলক কাপালি ও সোহাগ গাজীর। ২০০৩ সালে পেশোয়ার টেস্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করেছিলেন অলক। সোহাগের হ্যাটট্রিক ২০১৩ সালে চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।
আফগানিস্তানের রান তখন ৫ উইকেটে ২২০। সেখান থেকে ইনিংসের ৮৩তম ওভারের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বলে হাসান পর পর তুলে নেন ইসমত আলম, কায়েস আহমদ ও জিয়া–উর–রেহমানের উইকেট। হ্যাটট্রিক বলটা অফ স্টাম্পের সামান্য বাইরে পড়ে ভেতরে ঢুকে জিয়া–উর–রেমানের প্যাডে লাগে। কিন্তু এলবিডব্লুর আবেদন করেও প্রথমে আম্পায়ারের সাড়া পাননি হাসান। পরে রিভিউ নিয়ে ভেসেছেন প্রথম হ্যাটট্রিকের আনন্দে।
দিন শেষেও হাসানের কথায় একই আনন্দ, ‘এটা অসাধারণ অনুভূতি। প্রথম ইনিংসে আমরা ডিআরএসের কয়েকটি সুযোগ হারিয়েছিলাম। তাই সবাই ভাবছিল, এবার ডিআরএসের সিদ্ধান্ত কী হবে—বল উইকেটে লাগবে কি লাগবে না!’ বাকি কৃতিত্বটা তিনি দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল ও লিটন দাসকে, ‘এ ক্ষেত্রে কৃতিত্ব অধিনায়ক ও লিটন দাসের। তাঁরা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন, আলোচনা করছিলেন।’
টেস্টে চতুর্থ ৫ উইকেট পাওয়া নিয়ে অবশ্য বাড়তি রোমাঞ্চ নেই হাসানের, ‘আমি শুধু এভাবেই খেলে যেতে চাই। সামনে দেশের মাটিতে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ আছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট খেলতে যাব। সেগুলোর দিকেও তাকিয়ে আছি।’
হাসান শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ৫৫ রানে ৫ উইকেট নিয়ে। ৫৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে কম যাননি আরেক পেসার ইবাদত হোসেনও। হাসানের হ্যাটট্রিকে আফগানিস্তানের স্কোর ২২০/৫ থেকে মুহূর্তে হয়ে যায় ২২০/৮। এরপর আর মাত্র ২০ রান যোগ করে তো অলআউটই। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ লিড পায় ১০৬ রানের, তৃতীয় দিন শেষে যেটি দাঁড়িয়েছে ৩২৯। নাজমুলের ৮২ আর মুশফিকুর রহিমের ৮১ রানে দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩। ৫৩ রানে ৩ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর চতুর্থ উইকেটে তাঁদের ১৫৯ রানের জুটিতেই ভালো অবস্থানে চলে গেছে বাংলাদেশ।
