
নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৪৮
ছবি সংগৃহীত।
জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার (Kirill Lander-Weber)-এর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুক্তভোগীর হাতে উদ্ধার হওয়া ল্যাপটপটি হস্তান্তর করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিগণসহ অন্য ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এসময় নিজের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান।
ফিরে এসে তিনি তার ল্যাপটপ ও ক্যামেরা খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে তার গত ছয় মাসের কার্যক্রম ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল। তার লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাধিক টিম হারানো ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপটি (ম্যাকবুক) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ক্রিল বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণকালে তার ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপি আজ নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার দেন।
আইজিপি এ প্রশংসনীয় কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সব ইউনিটকে দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা প্রদান, দেশি-বিদেশি সব নাগরিককে নিরাপত্তা প্রদান ও আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের নির্দেশনা দেন।
চুয়েটে না ফেরার শর্তে পুলিশি পাহারায় ক্যাম্পাস ছাড়লেন ভিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৫০

ছবি সংগৃহীত।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে আনা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় অ্যাম্বুলেন্সে করে ক্যাম্পাস ছাড়েন তিনি।
তবে চুয়েট ক্যাম্পাস ছাড়তে উপাচার্যকে একটি শর্ত দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের নিচে তাকে নামিয়ে আনার পর মাইক হাতে এক শিক্ষার্থী ঘোষণা দেন, ‘ভিসিকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বের হতে দিচ্ছি একটি মাত্র শর্তে, সেটি হলো তিনি আর চুয়েট ক্যাম্পাসে ফিরবেন না।’
এ সময় ওই শিক্ষার্থীর পাশে জেলা প্রশাসক ও চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় উপাচার্যকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে লক্ষ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে চুয়েটের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। সকাল পৌনে ৯টার দিকে তার ক্যাম্পাসে প্রবেশের পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপাচার্য বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এরপর তারা তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে তাকে অবরুদ্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে তিনি নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন।
উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চুয়েটে গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে অচলাবস্থা চলছে। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ওই দিন উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়া হয়। পরে মুখোশ মিছিল, চোখ বাঁধা প্রতিবাদ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন তারা। একপর্যায়ে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বাত্মক বন্ধের কর্মসূচি শুরু হয়।
এদিকে উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের প্রতিবাদে সোমবার চুয়েট শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে সর্বাত্মক অসহযোগ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উপাচার্যকে উদ্ধার করতে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে বলেন, ‘একজন সম্মানিত শিক্ষক আমাদের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন, চিকিৎসার জন্য বলেছেন। তাকে আমরা নিয়ে যেতে এসেছি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।’
পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপাচার্যকে প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। তবে তাকে কোন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ডেঙ্গু সচেতনতায় পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: | মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:১৯

ছবি সংগৃহীত।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং ও জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মানুষ বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে জোরদার করতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। এ জন্য পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা সৃষ্টি এবং জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
বান্দরবানে ভুয়া জোতে আব্দুল্লাহ আল আরমানের কাঠ পাচার

নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:২১

ছবি সংগৃহীত।
বান্দরবানে ভুয়া জোতে ট্রাকের ট্রাক অবৈধ কাঠ পাচার করছে কথিত কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল আরমান। আওয়ামী সরকারের দোসর এই কাঠ ব্যবসায়ী শুধু সড়কপথে নয় নদীপথেও কাঠ পাচার করছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী নদীপথে পাচারের চেষ্টাকালে তার অবৈধ একটি কাঠের চালান আটক করেছে। আটক কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
১০ আগস্ট বান্দরবান সদর জোনের নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে নদীপথে পরিবহন করা একটি কাঠের চালান সন্দেহজনক মনে হলে উজানী পাড়া কাঠের ফিল্ডে কাঠ উত্তোলনের সময় তা আটক করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল আরমান কাগজপত্রের আড়ালে আনুমানিক ৪০ ঘনফুট কাঠ নদীপথে পরিবহনের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নজরে আসার পর বান্দরবান সদর জোনের সদস্যরা চালানটি আটক করে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন।
পরে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চালানের কাগজপত্র, কাঠের ধরন, পরিমাণ ও বৈধতা যাচাই করেন। যাচাই ও পরিমাপ শেষে চালানটিতে ৪০ ঘনফুট অবৈধ কাঠ শনাক্ত করা হয়। বন বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আটক কাঠের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
এদিকে জেলা সদরের উজানী পাড়া ও ক্যাচংঘাটা স-মিলে আব্দুল্লাহ আল আরমানের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাঠ এখনো মজুত আছে বলে জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে আব্দুল্লাহ আল আরমান বান্দরবান বন বিভাগ ও পাল্পউড বন বিভাগ থেকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে বেশ কয়েকটি ভুয়া জোত ইস্যু করিয়ে নিয়েছে। আর এসব ভুয়া জোতের আড়ালে সে সমান তালে কাঠ পাচার করছে। অভিযোগ রয়েছে জোতের আড়ালে আব্দুল্লাহ আল আরমান জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বনাঞ্চলের গাছ কেটে পাচার করছে।
এই বিষয়ে আরমান দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন আমি কাঠ পাচারে জড়িত নই। বরঞ্চ বনবিভাগে জোতের নামে জুলুম করছে। তারা জোত করতে প্রতি সিএফটি কাঠ থেকে ৫০ টাকা আদায় করছে। জোত করতে বনবিভাগসহ আইন শৃঙ্গলা বাহিনী সবাইকে টাকা দিতে হয়। এই বিষয়য়ে আপনার লিখেন আমরা সহযোগিতা করবো।
