ভিজিটিং কার্ডের কিউআর কোডের মাধ্যমে ক্রেতাদের সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপে নিয়ে মাদক বিক্রির অভিযোগে রাজধানীর ভাটারা থেকে এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রপআউট শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। তার কাছ থেকে আধা কেজি কুশ ও সিনথেটিক গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম সাইম ইসলাম। ডিএনসি জানিয়েছে, তিনি ‘ক্রেভিংস’ নামের একটি সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপের অ্যাডমিন। অভিযানে আধা কেজি কুশ, সিনথেটিক গাঁজা, বিপুল ভিজিটিং কার্ড ও মাদক বিক্রির আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএনসির সাইবার প্যাট্রোলিংয়ে গ্রুপটি নজরে আসে। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় গ্রুপ অ্যাডমিনকে শনাক্ত করা হয়।
ভিজিটিং কার্ডটির একপাশে ‘ক্রেভিংস’ লেখা। অন্যপাশের কিউআর কোড স্ক্যান করলে একটি ওয়েবপেজ আসে, যেখানে সিক্রেট টেলিগ্রাম পেজের লিংক রয়েছে। সেখানে লগইন-রেজিস্ট্রেশনের অপশনও আছে। টেলিগ্রাম গ্রুপে ঢুকলে সাবস্ক্রাইব করার অপশন আসে। এরপর অ্যাডমিনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ মেলে, যেখানে চাহিদামতো মাদকের অর্ডার দেওয়া যায়। অর্ডার করলে হোম ডেলিভারিতে মাদক পাওয়া যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সাইম ২০২৪ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগে ভর্তি হন। দুই বছর পর তিনি ড্রপআউট হন। আইটি বিষয়ে জানাশোনা কাজে লাগিয়ে তিনি এ পদ্ধতিতে মাদক বিক্রি শুরু করেন বলে ডিএনসি জানিয়েছে।
ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্রেভিংস’ গ্রুপে ৩৯৭ জন সাবস্ক্রাইবার রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগই বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান বলেন, ছয় মাস ধরে এ মাধ্যমে মাদক বিক্রি করছিলেন সাইম। তার টার্গেট ছিল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা। কার্ডের মাধ্যমে টেলিগ্রাম চ্যানেলে নিয়ে গিয়ে তারা একটি নিরাপদ জায়গা তৈরি করেছিলেন, মূলত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য।
তিনি আরও বলেন, “সেই টেলিগ্রাম চ্যানেলটি আমরা শনাক্ত করেছি। ওই চ্যানেলে ২৫০-এর মতো শিক্ষার্থী আছেন।” তার ভাষ্য, মামলা মাত্র রুজু হয়েছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং আরও কেউ আছেন কি না, তা খুঁজে বের করা হবে।
সম্প্রতি ঢাকা বিমানবন্দরে কুশের বেশ কয়েকটি চালান ধরা পড়েছে। এ প্রসঙ্গে ডিএনসি জানিয়েছে, দেশে কুশের বাজার তৈরির চেষ্টা করছে একটি আন্তর্জাতিক মাদকচক্র। সাইম ওই চক্রের কাছ থেকে কুশ কিনেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মো. মেহেদী হাসান জানান, গাঁজার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তিশালী মাদক কুশের বাজার তৈরির উদ্যোগ ভেস্তে দিতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে ডিএনসি।
বিআলো/শিলি