মা ইলিশ রক্ষায় সহায়তা, তালতলীতে সংবাদকর্মীর ফার্মেসিতে তালা দেওয়ার অভিযোগ
তালতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৯:২১:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
দৈনিক গনমুক্তি অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বরগুনার তালতলীতে মা ইলিশ রক্ষায় মৎস্য বিভাগকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করায় এক সংবাদকর্মীর ফার্মেসিতে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী মমিন আকন দৈনিক আজকের আওয়াজ পত্রিকার তালতলী উপজেলা প্রতিনিধি। তিনি জানান, অবৈধভাবে নদীতে জাল ফেলার প্রতিবাদ করে মৎস্য বিভাগের অভিযানে সহায়তা করায় স্থানীয় কয়েকজন জেলে তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হন। এরপর তাঁর ওষুধের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। জব্দ করা জালের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ২ নম্বর ছোটবগী ইউনিয়নের বগীর হাট খেয়াঘাটসংলগ্ন পায়রা নদী এলাকায়। অভিযুক্ত জেলেদের দাবি, মমিন আকন তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে নদীতে জাল ফেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। পরে তিনিই মৎস্য বিভাগকে দিয়ে সেই জাল জব্দ করিয়েছেন। তবে তাঁদের এই দাবির পক্ষে স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মমিন আকন। তাঁর অভিযোগ, মো. জহির খানের নেতৃত্বে হাচান, ওয়ারেচ খান, স্বপন, সোহেল হাওলাদার, কালামসহ কয়েকজন জেলে তাঁর ফার্মেসিতে তালা দেন। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে মমিন আকন তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন। ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনটি জালসহ মোট পাঁচটি জাল জব্দ করা হয়। পরে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে মমিন আকনকে উদ্ধার করে নিরাপদে তালতলীতে নিয়ে আসা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, মমিন আকন মৎস্যসম্পদ রক্ষার স্বার্থে প্রশাসনকে অবৈধভাবে জাল ফেলার তথ্য দিয়েছিলেন। পরে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার বিষয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মা ইলিশ সংরক্ষণে ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও বিপণনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলছে। এ সময়ে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে গিয়ে সংবাদকর্মীর হুমকির মুখে পড়া এবং তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
