আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘদিনের জাতিগত সংঘাতের ক্ষত এখনও শুকোয়নি। এরই মধ্যে মণিপুরে ফের হিংসার ঘটনায় মৃত্যু হল তিন জনের। সোমবার সকালে ইম্ফল পূর্ব ও কুকি অধ্যুষিত কাংপোকপির সীমানা সংলগ্ন এলাকায় সন্দেহভাজন কুকি জঙ্গিদের হামলায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। আহত আরও তিন জন। এই ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। নিহতদের মধ্যে দু’জনের দেহ নিয়ে তাঁরা পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে বাধ্য হয় নিরাপত্তাবাহিনী।
স্থানীয় বিধায়ক থোকচোম লোকেশ্বর সিংয়ের দাবি, সোমবার সকালে উয়ুমপোক এলাকার নংশুম পাহাড়ের কাছে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন কয়েক জন গ্রামবাসী। সেই সময় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। হামলায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিন জন আহত হয়েছেন। আহতদের ইম্ফলের রাজ মেডিসিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। নিহতরা হলেন, ৩৫ বছর বয়সি অরুবাম রনিল, ৪৪ বছর বয়সি লায়রেনলাকপাম ইনাওবি এবং ৩২ বছর বয়সী ক্ষেত্রিমায়ুম সুশীল। আহতরা হলেন, মেইসনাম সোমেন্দ্র, বনসন খিংদ্রাম এবং এনগানগোম সুরজ।
হত্যাকাণ্ডের খবর চাউর হতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ইম্ফলে। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা দু’জনের দেহ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই খেমচাঁদ সিংয়ের সরকারি বাসভবনের সামনে হাজির হন। রাজ্যে বারবার হিংসার ঘটনা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তারক্ষীরা কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়েন। পরে দেহগুলি সেখান থেকে সরিয়ে ইম্ফলের জওহরলাল নেহরু ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেসের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন থোকচোম। ঘটনাস্থলের কাছে থাকা সিনাই নামে একটি সাসপেনশন অফ অপারেশনস শিবির সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে যাওয়া গ্রামবাসীদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছিলেন অসম রাইফেলসের জওয়ানরা। তার পরেও কীভাবে এই হামলা ঘটল, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের মে মাসে মণিপুরে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের মধ্যে জাতিগত সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের পরিস্থিতি বারবার অশান্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা নতুন করে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে অবিশ্বাস ও উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
