ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন দেশটির শীর্ষ পর্যায়ের এক কূটনীতিক। গত জুলাই মাসে সমাপ্ত হওয়া প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে সরাসরি মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি থেকে শুরু করে দীর্ঘদিনের জনসম্মুখে না আসা ঘিরে তার শারীরিক অসুস্থতা ও হত্যাকাণ্ডের আশঙ্কার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল।
তবে সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, সর্বোচ্চ নেতা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন।
ডক্টর আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি জানান, অতি সম্প্রতি বা গত সপ্তাহেও মোজতবা খামেনি দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দীর্ঘ সাত ঘণ্টাব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন। তিনি অত্যন্ত চমৎকার স্বাস্থ্যের অধিকারী এবং খুব সুন্দরভাবে তাঁর দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এমনকি আমাদের প্রেসিডেন্টও উল্লেখ করেছেন যে গত সপ্তাহে তার সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতার সাত ঘণ্টার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এছাড়া আমাদের পার্লামেন্টের স্পিকার গতকাল বলেছেন যে তিনি তার সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন। আমার বেশ কয়েকজন বন্ধুও তার সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তারা আমাকে নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে তিনি পুরোপুরি সুস্থ আছেন ও নিজের কাজ খুব ভালোভাবে চালিয়ে যাচ্ছেন।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ছয় মাস আগে বাবা আলি খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। উক্ত হামলায় মোজতবা নিজেও আহত হন বলে জানা যায় এবং এরপর থেকে তিনি আর প্রকাশ্যে আসেননি। মূলত লিখিত বার্তার মাধ্যমেই এতদিন তার যোগাযোগ সীমাবদ্ধ ছিল।
বাবার দাফন অনুষ্ঠানে তার অনুপস্থিতি নিয়েও বিভ্রান্তি দূর করেন এই ইরানি কূটনীতিক। তিনি দাবি করেন, মোজতবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না; এমন খবর সত্য নয়।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত নতুন নিয়মের কারণে তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে আসেননি এবং কেউ তাকে সেভাবে দেখতে পায়নি। তবে তিনি তার বাবার জানাজায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। ওই সময় আমি ইরানেই ছিলাম এবং তাঁর দুই ভাইয়ের সঙ্গে দেখাও করেছি। মোজতবা খামেনি নিজেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এমনকি কিছু রাতে তিনি রাজপথেও নেমে আসেন, সাধারণ মানুষের মিছিলে অংশ নেন এবং সবকিছু খুব সুন্দরভাবে সামলাচ্ছেন।
