খুলনা সন্ধানী ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সদর থানার এসআই সুদীপ্ত শাহিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে তিনি চারজন আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে আসামি করেছেন। তবে মামলায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হলেও তাণ্ডবের কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।
মামলার আসামিরা হলেন, সদর থানার বাবুখান রোডের বাবু হোসেনের ছেলে মোস্তফা কাজী আলম হীরা (২২), আলতাপোল লেনের মোঃ হুমায়ুন কবিরের ছেলে মোঃ তানভীর হাসান মারুফ (২১), সোনাডাঙ্গা থানার গোবরচাকা মেইন রোডের তারেক মুন্সির ছেলে ফাহিম ও মুসলমানপাড়া চিড়া মিল এলাকার সুমন হাওলাদারের ছেলে মোঃ মাহিম হাওলাদার (২৪)। এদের মধ্যে পুলিশ মোস্তফা কাজী আলম হীরা এবং মোঃ তানভীর হাসান মারুফকে গত শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে এ ঘটনার ১৬ ঘণ্টা পর ক্লিনিকের সোনাডাঙ্গা শাখায় সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসককে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি প্রদান করা হয়। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকালে খুলনা কমার্স কলেজের বিপরীতে সন্ধানী ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায় সামনে বসে রয়েছেন একজন প্রহরী। ভেতরে দু’জন চিকিৎসকের চেম্বারের সামনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাচ ও অন্যান্য জিনিস পরিষ্কার করছেন একজন কর্মী।
সিটিস্ক্যান সহকারী মোঃ জাহিদ বলেন, শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় ক্লিনিকে ব্যাপক চাপ ছিল। কিছু বুঝে উঠার আগে কয়েকজন দুর্বৃত্ত দু’জন চিকিৎসকের চেম্বারে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। তারা ক্যাশ কাউন্টারে তাণ্ডব চালিয়েছে। শনিবার রাতের পর থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত ডায়াগনস্টিকের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন কর্তৃপক্ষ। তবে ক্লিনিকের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এখানে মালিকপক্ষ এবং চিকিৎসকরা কেউ আসেননি।
ক্লিনিকের ম্যানেজার মহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কাছে কেউ কোনো চাঁদা চায়নি। মামলার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আটক হিরা বলেন, ফাহিম তাকে সন্ধানী ক্লিনিকের সামনে ডেকে নিয়ে আসে। কিছু বুঝে উঠার আগে ক্লিনিকে হামলা শুরু হয়।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ লোকমান হোসেন রিপন বলেন, এ ঘটনায় থানার এসআই সুদীপ্ত শাহিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। ইতোমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খুলনা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত সন্ধানী ক্লিনিকের দ্বিতীয় শাখায় সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তাদের অনেকের মুখে মাস্ক ছিল। এ সময় তারা হাসপাতালের ম্যানেজারকে না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। দুর্বৃত্তরা ক্লিনিকে প্রবেশ করার সাথে সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখান থেকে বের হয়ে যায়। ওই সময় তারা কর্তব্যরত চিকিৎসক পার্থ রায়কে হুমকি দেয়া হয়।
পরবর্তীতে ঘাড়ে হাত রেখে তাকে ভালো হওয়ার পরামর্শ দেয়। আতঙ্ক সৃষ্টি করার পর দুর্বৃত্তরা ইজিবাইকে চলে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক ক্লিনিকে থাকা এক নারী বলেন, ১২-১৩ জন দুর্বৃত্ত মুখে মাস্ক পরা অবস্থায় ক্লিনিকে প্রবেশ করে। তাদের বয়স আনুমানিক ১৮-১৯ হবে। এদের মধ্যে একজনের হাতে একটি পিস্তল ছিল। তারা স্টাফদের উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করতে থাকে।
চিকিৎসক পার্থ রায় বলেন, তারা আমাকে অস্ত্র প্রদর্শন করে হুমকি প্রদান করে। ঘাড়ে হাত দিয়ে ভালো হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। তিনি বলেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি। এখানে চাকরি করি। কোনো লেনদেন থাকলে তা মালিক পক্ষের সাথে আলাপ করার পরামর্শ দেন তিনি। ক্লিনিকে তারা ১৫ মিনিট অবস্থান করার পর চলে যায়। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন সোনাডাঙ্গা মডেল থানার এসআই সাইফুর রহমান। তিনি ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান।
সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ থানায় কোনো অভিযোগ দেয়নি।
খুলনা গেজেট/উউরা
