আগামী দুই বছরের মধ্যে নিজেদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩ কোটি ডলার থেকে বাড়িয়ে ২০ কোটি ডলারে উন্নীত করতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান ও মালদ্বীপ। একাধিক খাতে সহযোগিতা জোরদারে দুদেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পর বুধবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ কথা জানান।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে রয়েছেন। গত ১১ বছরের মধ্যে এটিই মালদ্বীপের কোনো প্রেসিডেন্টের প্রথম পাকিস্তান সফর। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৬০তম বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণেই এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা যখন চুক্তিপত্র বিনিময় করছিলেন, তখন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ও প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সফররত মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রচেষ্টা আরও বেগবান করা হবে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে মালদ্বীপকে কারিগরি সহায়তা দেবে পাকিস্তান।
এসব চুক্তির মধ্যে প্রতিরক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, মৎস্য, পর্যটন, সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে।
তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল দক্ষতা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। মাদকদ্রব্যের অবৈধ পাচার ও অপব্যবহার রোধে সহযোগিতা বাড়াতেও একমত হয়েছে দুই দেশ।
বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়াতে মালদ্বীপ স্টেট ট্রেডিং অর্গানাইজেশন এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব পাকিস্তান কৃষি পণ্য, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্য কেনাবেচায় একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছে। অন্য একটি চুক্তি হয়েছে পরিবেশ সুরক্ষায় সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে।
এর আগে বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রী হাউসে পৌঁছালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মুইজ্জুকে অভ্যর্থনা জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে গার্ড অব অনার জানানো হয়।
ফার্স্ট লেডি সাজিদা মোহাম্মদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিয়ে গত মঙ্গলবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ইসলামাবাদ পৌঁছান প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু।
সফরকালে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করার কথা। মুইজ্জুর সফরকালে দুই দেশই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উপায় নিয়ে আলোচনা করছে।
