যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের জন্য ঘোষিত ৮০০ কোটি ডলারের ডিজেল সহায়তা আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বিতরণ করা হবে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে মার্কিন নাগরিকদের ওপর তৈরি হওয়া চাপ কমাতে নেওয়া বিভিন্ন ব্যয়বহুল ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত সোমবার কানসাসে এক সমাবেশে এ সহায়তার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা রিচার্ড ফোর্ডাইস বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ঠিক কবে নাগাদ অর্থ বিতরণ শুরু হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। আমার ধারণা, বছরের শেষের দিকে অর্থ দেওয়া হবে। তবে এ মুহূর্তে বিষয়টি কিছুটা অনিশ্চিত।
চলতি ফসল কাটার মৌসুমে ডিজেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েছেন মার্কিন কৃষকেরা। ফসল কাটার যন্ত্র, ট্রাক্টর ও অন্যান্য কৃষি সরঞ্জাম চালাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছর জ্বালানি বাবদ কৃষকদের প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বেশি ব্যয় হতে পারে।
ফোর্ডাইস জানান, কৃষকদের গড় জ্বালানি ব্যবহারের তথ্যের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে। তবে এজন্য ৮০০ কোটি ডলারের যে হিসাব করা হয়েছে, তা নিয়ে কৃষি বিভাগ আশাবাদী।
তিনি বলেন, নির্দিষ্ট অঙ্ক চূড়ান্ত করতে এখনো অনেক কাজ বাকি। তবে আমাদের বিশ্বাস, ৮০০ কোটি ডলারের হিসাবটি কাছাকাছি।
কৃষকদের এ অর্থ দেওয়া হবে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের কমোডিটি ক্রেডিট করপোরেশনের তহবিল থেকে। এই তহবিলের অর্থ ব্যয় করার ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ অনুমোদনসাপেক্ষ সুযোগ রয়েছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে কৃষকদের শুল্কজনিত ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিতরণ করা ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের সহায়তাও এই তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছিল।
ফোর্ডাইস বলেন, ডিজেল সহায়তা দেওয়ার জন্য তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ রয়েছে।
চলতি বছর মার্কিন কৃষকদের সরকারি সহায়তার পরিমাণ এমনিতেই ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস ছিল। নতুন ডিজেল সহায়তা যোগ হলে তা বেড়ে রেকর্ড ৫ হাজার ৫৪০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে।
এর আগে কৃষকদের সরকারি সহায়তার সর্বোচ্চ রেকর্ড ছিল ২০২০ সালে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। সে সময় করোনাভাইরাস মহামারির প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হয়েছিল।
ফোর্ডাইস জানান, সয়াবিন, ভুট্টা ও ধানের মতো কৃষিপণ্যের উৎপাদকদের সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে কৃষি বিভাগের তৈরি গড় জ্বালানি ব্যয়ের মডেল অনুসারে।
এ ছাড়া জেলে ও ফল-সবজি উৎপাদনকারীদের মতো অন্যান্য খাতের উৎপাদকদের জ্বালানি ব্যয়ের তথ্য সংগ্রহ করছে কৃষি বিভাগ। তবে সহায়তা পেতে তাদের জ্বালানি কেনার রসিদ জমা দিতে হবে না বলে জানান তিনি।
সূত্র : রয়টার্স
